হারানো ব্লু বুক ফিরে পেতে ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ

অক্টোবর মাসেই রিক্সা আর ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়নের সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেটঃ

উষার আলো রিপোর্ট : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ইজিবাইক লাইসেন্স নবায়ন করা হবে আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আর রিক্সার লাইসেন্স নবায়ন করা হবে ১ অক্টোবর থেকে। এর পূর্বে রিক্সার মালিকদের সকল বকেয়া মাফ করে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যাটারি চালিত রিক্সা একটি থাকা পর্যন্ত কেসিসির অভিযান চলবে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরভবনে কেসিসির সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কেসিসি ৭৮৯৫টি ইজিবাইক লাইসেন্স দিয়েছে। করোনার কারণে তা নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য শিগগিরই নবায়ন করা হবে। আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইজিবাইক লাইসেন্স নবায়ন করা হবে। নবায়ন ফি দু’ হাজার টাকা, নাম পরিবর্তন ফি চার হাজার টাকা ও ব্লু বুক হারানোর ক্ষেত্রে ডুবলিকেট ব্লু বুক পেতে ফি ১০ হাজার টাকা, ইজিবাইক চালক লাইসেন্স ফি পাঁচশত টাকা ও তা নাবায়ন ফি তিনশত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ইজিবাইক লাইসেন্স হারানো বাবদ কেসিসিতে জিডি জমা দিয়েছে প্রায় দেড়শত ইজিবাইক মালিক। মালিকরা ডুবলিকেট লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে

এছাড়া ১ অক্টোবর থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছরের রিক্সার লাইসেন্স নবায়ন করা হবে। এর আগে রিক্সার মালিকদের নিকট নবায়নের জন্য যত পাওনা রয়েছে তা মাফ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রিক্সার লাইসেন্স নবায়ন ফি তিনশত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নগরীতে ব্যাটারি চালিত একটি রিক্সা থাকা পর্যন্ত কেসিসির অভিযান চলবে। সামনে এ অভিযান আরো কঠোর হবে। কারণ গত কয়েক দিন ধরে নগরীতে নিজ উদ্যোগে রিক্সা থেকে ব্যাটারি খুলে ফেলার জন্য মাইকিং করা হলেও অনেক রিক্সার মালিক তা আমলে না নিয়েই এখনও ব্যাটারি লাগিয়ে রেখেছে। অবিলম্বে রিক্সা থেকে ব্যাটারি খুলে ফেলার আহবান জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ট্রেড লাইসেন্স বই হারানোর পর নতুন বই সংগ্রহে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করতে চাইলে দু’শত টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে নগরীর গড়ে ওঠো অবৈধ বাজার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তার আগে নগরীতে মাইকিং করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আজমুল হক জানান, সভায় ইজিবাইক লাইসেন্স নবায়ন করাসহ নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলতে রাজি নন।

এদিকে কেসিসি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১২তম সাধারণ সভা বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর সভাপতিত্বে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সহিদুর রহমান, কেসিসি’র সাবেক কমিশনার শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাবেক গোপন সহকারী মোঃ আসাদ ফকির, সাবেক বৈদ্যুতিক শ্রমিক আসলাম খান-এর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাঁদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

এছাড়া সভায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধণ এবং সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত সকল রাস্তার মিড আইল্যান্ড মেরামত, নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি, নগর সংলগ্ন বাইশটি খাল খনন ও খালসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক শাখা সৃষ্টি; জ্ঞান চর্চা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রকল্প প্রণয়ণের ক্ষেত্রে কেসিসি এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, জন্মমৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের পাশাপাশি সকল ওয়ার্ড অফিসসমূহে প্রিন্টার ও স্ক্যানারসহ নতুন কম্পিউটার প্রদান, মশক নিধন কার্য্যক্রম জোরদার, রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ বাজার ও দোকান পাট উচ্ছেদে নগরীতে মাইকিং ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভাপতির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, বৃষ্টির কারণে বন্ধ থাকা সকল উন্নয়ন কাজ বৃষ্টির মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে শুরু করা হবে। খুলনাকে একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নান্দনিক শহর গড়ে তুলতে চাই। এক্ষেত্রে উন্নয়ন কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না।

কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম মুন্না, মোঃ আলি আকবর টিপু, এ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুসহ কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আজমুল হক।

(ঊষার আলো-এমএনএস)