অবহেলায় দেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশনটি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ সুজন বিশ্বাস, কুষ্টিয়া : বিভিন্ন দেশে রেল ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও আধুনিক হলেও আমাদের দেশের চিত্রটি একেবারে ভিন্ন। দেশে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম রেল খাত সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হলেও এটি কতটা অবহেলার শিকার তা বহুল আলোচিত। দেশের ঐতিহ্যবাহী জগতী রেলস্টেশন কতটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, এগুলোর মধ্যে শতাধিক স্টেশন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। ভগ্নস্তূপে পরিণত হওয়া ঐতিহ্যবাহী জগতি স্টেশন সংস্কারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তা না হলে এক সময় স্টেশনগুলোর নাম ইতিহাসের পাতায় স্থান পেলেও বাস্তবে হয়তো এসব স্থাপনার কোনো চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশের সর্বপ্রথম কুষ্টিয়ার জগতি এলাকায় রেলওয়ে স্টেশনটি আজ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর কলকাতার রাণাঘাট থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩.১১ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ চালু হয়। রেলপথ ও জগতি স্টেশন স্থাপনের পর দেশে শুরু হয় রেলওয়ের যাত্রা। কিন্তু অবহেলায় ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশনটি। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারিতে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত আরও প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণসহ পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক আড়াই’শ বছর আগে স্থাপিত দেশের প্রথম এ স্টেশনটির বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক ও জরাজীর্ণ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলায় সংস্কার কিংবা আধুনিকায়নের অভাবে দোতলা স্টেশন ভবনটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও পণ্য পরিবহনে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে জগতি রেলওয়ে স্টেশনটির গুরুত্ব ও কদর ছিল। কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যমণ্ডিত এই স্টেশনটির আসল রুপ-সৌন্দর্য ও জৌলুস হারিয়ে গেছে। দোতলা স্টেশন ভবনটির ছাদে জন্মেছে প্রচুর আগাছা। ভবনটিতে ধরেছে ফাটল। অযত্ন-অবহেলায় স্টেশনের ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্লাটফর্মের ইট ও গাঁথুনি ক্ষয়ে গেছে। প্লাটফর্মের অদূরেই তৎকালীন সময় নির্মিত বিশাল আয়তনের ওভারহেড পানির ট্যাংকটি বিলীন হয়ে গেছে।

স্টেশন মাস্টাসহ প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়ন নেই দীর্ঘকাল। ফলে গেট কিপার ও পয়েসম্যানসহ মাত্র দু’জন কর্মচারীই স্টেশনটি রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল করেন। এ স্টেশনে নিরাপত্তাকর্মী আরও ১০-১২টি পদ রয়েছে শূন্য। শুধুই কাগজে-কলমে স্টেশনটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এ স্টেশন ডিঙ্গিয়ে খুলনা-গোয়ালন্দ ঘাট, রাজশাহী গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ি-পোড়াদহ জংশন রুটে প্রতিদিন প্রায় ৮-১০টি ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু জগতি স্টেশনটিতে সব ট্রেনের স্টপেজ নেই। শুধুমাত্র নকশী কাঁথা মেইল ও স্যাটল ট্রেন এই স্টেশনে উঠা-নামার সুযোগ পান। ফলে স্টেশনটির জীর্ণদশা ও দুরবস্থায় যাত্রীদেরও পোহাতে হয় দুর্ভোগ। স্টেশনে ওয়েটিং রুম, ওয়াশ রুমসহ যাত্রী সেবার বালাই নেই। পর্যাপ্ত বাতি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় রাতের বেলায় স্টেশনে নেমে আসে ভুতুড়ে অন্ধকার ও নিস্তবতা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)