খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সমন্বয়কদের যুক্ত বিবৃতি

সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়কবৃন্দ। প্রদত্ত বিবৃতিতে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সামুদ্রিক ঝড়-তুফান-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য প্রাকৃতিক ঢাল সুন্দরবন ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠবে। এমনিতে ভৈরব নদের প্রবাহ বন্ধ থাকায় উজানের মিঠাপানির অভাবে শত বছর ধরে সুন্দরবনের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। গাছপালা মাথামরা রোগে আক্রান্ত এ সময় রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে মড়ার ওপর খাড়ার ঘা। জানা গেছে, ভারত থেকে নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো হবে। আর এই কয়লা আসবে রামপাল-চালনা-মোংলা রুটে। এই রুটে রয়েছে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব-বলেশ্বর-শিবসা-শাকবাড়িয়া-কালিন্দী-পানগুছি-রায়মঙ্গল নদী। প্রতি মাসে ভারত থেকে আসবে ৩০টি এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে ৮০টি কয়লাবাহী জাহাজ।
ইতোমধ্যে গত ১০ বছরে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে শ্যালা-পশুর-কুঙ্গা ও ভৈরব নদে ১১টি ও ভারতের অংশে ফাইএ্যাশের কার্গো ডুবেছে। যার ফলে ৬ হাজার টন ফাইএ্যাশ, ৫ হাজার টন কয়লা, ৩৭০ টন জ্বালানী তেল, ৫০০ টন পটাশিয়াম, ১ হাজার ৩৬ টন জিপসাম ও ৭০০ টন গম সুন্দরবনের নদী ও বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে এর দূষণের সাথে কয়লা পরিবহনের দূষণ যুক্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে সুন্দরবনের মাটি ও পানি। গাছপালা ও প্রাণিসম্পদসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাতে বিশ্ব ঐতিহ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল সুন্দরবন সমূহ সংকটের মুখে পড়বে। নেতৃবৃন্দ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি পরিবেশবিদ ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আপত্তি উপেক্ষা করে সরকার রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে অনড়। আমাদের দৃঢ় ধারণা শুধু ভারতের কর্পোরেট পূঁজির স্বার্থ রক্ষার তাগিদে সরকার নতজানুনীতি অবলম্বন করে চলেছে। দেশের সচেতন নাগরিকবৃন্দ অবগত আছেন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। সরকার একদিকে বিশ্ব সমাজের কাছে ভিক্ষার ঝুলি হাতে সাহায্যের আবেদন করে চলেছে, অন্যদিকে সুন্দরবন সংলগ্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে মরিয়াÑযা’ সম্পর্ণরূপে স্ববিরোধী। অতি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় জৈব জ্বালানী বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক শিল্প কারখানা থেকে সরে আসতে মতৈক্যে পৌঁছেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার রামপাল তাপবিদ্যূৎ প্রকল্প নির্মাণ করতে অনড়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য যে তাগিদ তার সাথে এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা অযৌক্তিক, বিসদৃশ ও সাংঘর্ষিক। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে আর কালক্ষেপণ না করে নেতৃবৃন্দ সরকারকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবি এবং পাশাপাশি জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান। বিবৃতিদাতারা হলেনÑবাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, বাগেরহাট জেলা সমন্বয়ক ফররুখ হাসান জুয়েল, সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক এ্যাড. আজাদ হোসেন বেলাল, যশোর জেলা সমন্বয়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, নড়াইল জেলা সমন্বয়ক মনিউর রহমান জিকু, কুষ্টিয়া জেলা সমন্বয়ক সফিউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমন্বয়ক লুৎফর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা সমন্বয়ক এ্যাড. আসাদুজ্জামান, মাগুরা জেলা সমন্বয়ক কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়ক জালাল উদ্দীন।

(ঊষার আলো-আরএম)