খুমেক পিসিআর ল্যাব ‘দূষিত’

আজ থেকে ৩ দিনের জন্য বন্ধ করোনা পরীক্ষা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) আরটি পিসিআর ল্যাব ‘দূষিত’ হওয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে করোনার নমুনা পরীক্ষা।
চালু হওয়ার ১৫ মাস পরে প্রথমবারের মতো ১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে ৩ দিনের জন্য বন্ধ থাকছে এই ল্যাবটি। গত বছরের ৭ এপ্রিল চালু হয়েছিল ল্যবটি।
এদিকে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হবে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
৩০ জুন বুধবার নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ার পর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার থেকে ল্যাবটির কার্যক্রম বন্ধ করে দূষণমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সভাপতি এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেছেন, ল্যাবটি বন্ধ থাকলেও আগে থেকেই মজুত থাকা প্রায় ২ হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হবে সেগুলোও এ ল্যাবে এই ৩ দিনে পরীক্ষার সুযোগ থাকছে না। তবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অবস্থান করা রোগীদের মধ্যে যাদের পরীক্ষার প্রয়োজন হবে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) পিসিআর ল্যাব থেকে পরীক্ষা করা হবে।
উপাধ্যক্ষ আরও বলেছেন, খুবিতে ১ দিনে মাত্র ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাব থেকে কিট, রি-এজেন্ট নিয়ে এখানকার জনবল গিয়েই খুবির ল্যাব থেকে শুধু পরীক্ষাগুলো করিয়ে আনবে। তা না হলে রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। আর করোনা হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়া না গেলে নতুন করে ভর্তি করা যাবে না।
ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেছে, পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা স্বাভাবিক রাখতে হলে প্রতি মাসে অন্তত ১ বার করে দূষণমুক্ত করা উচিত। কিন্তু খুমেকের পিসিআর ল্যাবটি চালুর পর কখনই এমনটি করা হয়নি। কেননা ১ বার দূষণমুক্ত করতে হলে অন্তত ২’দিন ল্যাব বন্ধ রাখতে হয়। এমনিতেই এ ল্যাবে প্রচুর চাপ ছিল। যে কারণে মাসে ২’দিন বন্ধ রাখা সম্ভব ছিলনা। কিন্তু বুধবার প্রায় সাড়ে ৫শ’র মতো নমুনা পরীক্ষার সময়ে দেখা যায় সবগুলোই পজিটিভ। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে ল্যাবটি দূষিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।
বুধবার যেসব নমুনার পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া সম্ভব হয়নি সেগুলোর জন্য আর নতুন করে নমুনা নেওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, তাদের নমুনা যেহেতু রেখে দেওয়া হয়েছিল সেহেতু পরবর্তীতে হয়তো ঢাকা থেকে করে আনা অথবা খুলনার ল্যাবটি পুনরায় চালু হলে পরীক্ষা করা হবে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুমেক’র পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকলেও খুলনাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এন্টিজেন পরীক্ষা যথারীতি চালু থাকবে। আর ল্যাব দুষণমুক্ত হলে পূণরায় পরীক্ষা শুরু করা হবে।

(ঊষার আলো- এম,এইচ)