বাজার মনিটরিংয়ের দাবি

আমদানি বন্ধের অযুহাতে ৩৬ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকা

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : মাত্র ২/৩ দিনের ব্যবধানে দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজারে ৩৬ টাকার পেয়াজ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে এমন দাম বৃদ্ধির কারনে নাজেহাল অবস্থায় পড়েছেন বাজারে আসা খুচরা বিক্রেতাসহ সাধারণ ক্রেতাগণ। হঠাৎ পেঁয়াজের দাম এমন উর্ধ্বমুখী হচ্ছে এবং যা ধীরে-ধীরে আকাশ ছোঁয়া অবস্থানে পৌছাতে পারে এমনই আশংকা করছেন বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা।

বাজারে আসা অধিকাংশ ক্রেতা বলছেন, কয়েক বছর যাবৎ কোনো কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে। যার ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের। বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকটে দাম বাড়ে, মোকামে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি, আর বর্তমানে পেঁয়াজের আমদানি না হওয়ার কারণ দেখিয়ে পেঁয়াজের এই দাম রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ব্যবসায়ী মহল বলছেন, পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায়, এলসি পেঁয়াজের আমদানি কম এবং যাদের নিকট এই পেঁয়াজ মজুদ আছে তারা হঠাৎ দাম বৃদ্ধি করেছে। যে কারণে এলসি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার দরুণ দেশি পেঁয়াজেরও দাম রাতারাতি বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে, সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজার ঘুরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২/৩ দিন আগে দৌলতপুর পাইকারী বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৬ টাকা কেজি যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আর পাইকারী বাজার ঘুরে এসে এই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতা কিনছে ৬০ টাকায়। যা ২/৩ দিন আগেও খুচরা বাজার হতে সাধারণ ক্রেতারা কিনেছে ৪০ টাকায়।

মেসার্স ভাই ভাই বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক উজ্বল জানান, বর্তমানে এলসি পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে পাইকারী বাজারে যে পেঁয়াজ আসছে তা ফরিদপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল হতে। বেশি আসছে কুষ্টিয়া হতে। এছাড়া বর্তমানে বাঁশগ্রাম, পানতি, লাঙ্গলবাঁধ, শ্মশান, বাটই, গাড়াগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে পেঁয়াজের দাম বর্তমানে বেশি যাচ্ছে। যে কারণে হাট ঘুরে বাজারে এবং বাজার ঘুরে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের এই উর্ধ্বগতি।

খুচরা বাজারে আসা ক্রেতা সুফিয়া বেগম জানান, বাজারে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, চিনি আটা, ডাল ইত্যাদির দাম অসহনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার নতুন যন্ত্রনা পেঁয়াজের দাম। গত ২ দিন আগে যে পেঁয়াজ নিয়ে গেছি ৪০ টাকায় তা সোমবার ৬০ টাকা।

ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে মোকামে পেঁয়াজের দাম বেশি। মোকাম ঘুরে, বাজার ঘুরে খুচরা বাজারে এসে দামের প্রভাব পড়ছে। তবে আমরা পাইকারী বাজার হতে কেজি প্রতি ২/৩ টাকা বেশি দরে বিক্রি করি। এর মধ্যে আড়ৎদারী, মাল আনা খরচ ইত্যাদি রয়েছে।

দেয়ানা ঋষিপাড়ার ব্যবসায়ী এল. রহমান স্টোরের মালিক লুৎফর রহমান বলেন, আমার মুদি দোকান আছে। ২/৩ আগে পাইকারী বাজার হতে ৩৬-৩৮ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে এনেছি। বর্তমানে ৫৩-৫৫ টাকা দরে কিনে আনতে হচ্ছে। আর দোকানে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। যে পেঁয়াজ দু’দিন আগে ছিল ৩৬ টাকায় কেনা তা এখন ৬০ টাকা। দোকানে খুচরা বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছি।

দৌলতপুর খুচরা বাজার কাচাঁমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ব্যবসায়ী পলাশ শেখ বলেন, মূলত পেঁয়াজের আমদানি কম থাকায় মোকামে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেশি। যে কারণে পাইকারদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে আনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পাইকারী বাজারের ঘুরে খুচরা ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়ছে।

ট্রেড কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র আঞ্চলিক প্রধান মোঃ আনিসুর রহমান জানান, টিসিবি ট্রাক সেলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ দিয়েছে। বর্তমানে টিসিবি’র কার্যক্রম বন্ধ আছে, চলতি মাসের ৬/৭ তারিখ হতে আবার ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। যেখানে পেঁয়াজও থাকবে।

তিনি আরও জানান, টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে দৌলতপুর বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা চরম হতাশায় ভুগছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)