পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ

আমীর হামজাকে পাঞ্জাবী পরা ডিবি ধরে নিয়ে গেছে

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজাকে পাঞ্জাবী পরিহিত ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে- এমন অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (২৪ মে) বিকাল ৪টার দিকে জেলার ডাবিরাভিটা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
আমির হামজার দাদা জান মোহাম্মদ জানান, মুফতি আমির হামজা রবিবার (২৩ মে) রাতে বাড়িতে এসেছিলেন। কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে এসে ৫/৬ এসে তাকে ধরে নিয়ে যান। এদের সবাই পাঞ্জাবী পরা ছিলো। পোশাকে ডিবি লেখা ছিলো, কোমরে ছিলো পিস্তল। নিয়ে যাওয়ার পর আমরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি কিন্তু তাকে কোথায় নেয়া হয়েছে কেউ বলতে পারছে না।
স্থানীয় যুবক মো. রাকিব জানিয়েছেন, ব্রিজের ওপর মাইক্রোবাসটি এসে থামে। এরপর একজন অপরিচিত লোক বাড়ি দেখিয়ে দেন। পরে দেখলাম আমীর হামজাদে ধরে নিয়ে গেল।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের ওসি মো. আমিনুল জানান, ডিবি পুলিশ আমীর হামজাকে আটক করেনি। বিষয়টি আমাদের জানা নেই- বলেন তিনি।
তবে, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সোমবার (২৪ মে) তাকে কুষ্টিয়া থেকে আটক করেছে বলে ঢাকায় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন সিটিটিসি’র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের রিয়াজ সর্দারের ছেলে।
কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে পালিয়ে বেড়ানোর খবর প্রচার করেন। তবে তিনি সে বক্তব্য প্রত্যাক্ষান করে বিবৃতিও দেন। আমির হামজা বলেছিলেন আমি চোর নয় যে পালিয়ে বেড়াবো। পরিবারের লোকজন বলেন, আমির হামজা আকিজ কোম্পানীর মসজিদের ইমাম।
এর আগে ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও দেশজুড়ে উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে খুঁজছে পুলিশ এমন খবর প্রকাশ হয়। পুলিশের দাবি, আমির হামজা ওয়াজ-মাহফিলে ইসলামের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। ইউটিউবে অবমুক্ত তার বেশ কিছু বক্তব্য উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। যা শুনে কোমলমতি কিশোর-তরুণরা জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজকারী মুফতি আমির হামজা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া ইসলামী বক্তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালে কুষ্টিয়া জেলায় তার জন্ম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে আল-কোরআনের ওপর অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তিনি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)