বানারীপাড়ায় ভিজিডি কার্ডধারীর চাল তুলে নিল অন্যজন

ইউপি সদস্যকে ৫ হাজার দিয়েও মিলল না মাতৃত্বকালীন ভাতা

সর্বশেষ আপডেটঃ

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া (বরিশাল) : বরিশালের বানারীপাড়ায় ভিজিডি কার্ডধারী হতদরিদ্র অসহায় এক নারীর চাল চারবার অন্য নারীর নামে তুলে নেয়া ও ইউপি সদস্যকে ৫ হাজার টাকা দিয়েও মাতৃত্বকালীন ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গোয়াইলবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র অসহায় জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের (৩০) নামে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর একটি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে তার ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সকালে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি কার্ডের চাল দেয়া হচ্ছে খবর পেয়ে সুরাইয়া বেগম ইউনিয়ন পরিষদে যান। কিন্তু তিনি গিয়ে দেখেন ইউনিয়ন পরিষদে জমাকৃত ভিজিডি কার্ডে তার ছবি ও স্বামীর নাম থাকা সত্বেও ফারজানা নামের একজনের আঙ্গুলের ছাপে অন্তত ৪বার চাল তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার সোহেল হাওলাদার অসহায় ভিজিডি কার্ডে সুরাইয়া বেগমের ছবি দেখে ইউনিয়ন পরিষদে জমাকৃত কার্ডটি উদ্ধার করেন। তিনি জানান, কার্ডধারীর অনুপস্থিতিতে এর আগে ৪বার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সুরাইয়া বেগম বলেন, গার্মেন্টসে চাকরী করতো তার স্বামী। কোভিড-১৯ করোনাকালিন সময়ে গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেলে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন তারা। তখন থেকে সুরাইয়া বেগম এলাকার তৎকালীণ মেম্বার শাহাজাহান হাওলাদারের দারস্থ হন। তাকে অনেকবার অনুনয়বিনয় করার পরে গত ৮/৯ মাস আগে তিনি ভিজিডি কার্ডের জন্য তার ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নেন।

সুরাইয়া বেগম আরও জানান, তার হতদরিদ্র দেবর ইব্রাহিম হাওলাদার সন্তানের জন্মের পরে মাতৃত্বকালীন ভাতার মাধ্যমে সহায়তা পেতে ওই মেম্বারকে বললে তিনি ৫হাজার টাকার বিনিময়ে কার্ডটি করে দিতে পারবেন বলে জানান। পরে তার দেবর অনেক কষ্টে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তাকে দিয়েও গত ৮ মাসে কোন মাতৃত্বকালীন শিশু কার্ড পাননি। ইউপি মেম্বারের যোগসাজশে তার ভিজিডি কার্ডের চাল তুলে নেয়া ও ৫ হাজার টাকা দিয়েও মাতৃত্বকালীন ভাতা না পাওয়ার বিষয়ে সুরাইয়া বেগম ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার সিদ্দিকুর রহমানের কাছে অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাস্টার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে সাবেক মেম্বার শাহজাহান হাওলাদার মুঠোফোনে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই ভিজিডি কার্ডের ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ অবগত ছিলেন এবং স্থানীয় চৌকিদারের মাধ্যমে ফারজানাকে চাল দেয়া হয়। প্রসঙ্গত এসব নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি মেম্বার পদে শাহজাহান হাওলাদার পরাজিত হন। এদিকে ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে স্বচ্ছতা আনতে ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার সলিয়াবাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার সিদ্দিকুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সার্বিক মনিটরিং করে কার্ডধারী ২৩৮ জনের মাঝে চাল বিতরণ করেন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)