এবার ভেঙ্গে ফেলা হলো সরল বাজারস্থ শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়

সর্বশেষ আপডেটঃ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছার সরল বাজারস্থ শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি এজাজ শফী।


চরম ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী; উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনও ও ওসি’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন

————————————————————————

শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, পাইকগাছা পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে খুলনা জেলা পরিষদের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি এলাকাবাসী সুপেয় পানির জন্য ব্যবহার করে থাকে। বান্দিকাটী পুকুরপাড় নামে এটি পরিচিত। প্রধান সড়কের পাশে পুকুর পাড়ের দক্ষিণ পূর্ব কর্ণারে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয় রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের মাধ্যমে শেখ রাসেল এর জন্মদিন পালন, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় অত্র কার্যালয়টি পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসএম মুজিবর রহমান সহ এলাকার কতিপয় ব্যক্তি জেলা পরিষদের নামে পুকুরের আংশিক ভরাট করে পুকুর পাড়ে মার্কেট নির্মাণ করছে। মার্কেট নির্মাণ করার পূর্বে প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়াই কতিপয় ব্যক্তিরা নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করার মাধ্যমে পুকুর পাড়ে যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল, সেই সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্থ সহ ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা, অপরদিকে পুকুরের আংশিক ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করায় এবং পুকুর পাড়ের গাছ-পালা কর্তন করায় পুকুরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি জরুরী প্রয়োজনে মঙ্গলবার (৪ মে) খুলনায় অবস্থান করছি। এমন সময় মুঠোফোনে জানতে পারি মঙ্গলবার (৪ মে) সাহারীর পর সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন কতিপয় লোকজন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলেছে। খবরটি শুনে যেমন খারাপ লেগেছে, তেমনি হতবাক হয়েছি এই ভেবে কাদের এতো দুঃসাহস হলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ রাসেল এর নামে গড়া এমন মূল্যবান একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দিল। তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করি। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মুঠোফোনে সবখানে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী সহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অভিযোগ অদৃশ্য শক্তির বলে এলাকার জামায়াত-বিএনপি পরিবারের কতিপয় ব্যক্তিরা সরকারি সম্পদ জবর দখল ও পরিবার কেন্দ্রিক ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ খবর শুনে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি এজাজ শফী। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান। ওসি এজাজ শফী জানান, ঘটনাটি খুব ভোরে ঘটেছে। এ জন্য ওই সময় বিষয়টি আমাদেরকে কেউ অবহিত করেনি। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আশেপাশের অনেককে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজু করে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ওসি এজাজ শফী জানিয়েছেন। জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু জানান, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ভাঙ্গার ব্যাপারে আমার কোন কিছু জানানেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কোন প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ কিংবা ভাঙ্গার জন্য কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। যেমন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি যখন ভাঙ্গা হয়েছে সেখানে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সহযোগিতাও নিতে পারতো। কিন্তু যেভাবে ভাঙ্গা হয়েছে এটি সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। যথা স্থানে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি পূর্ণস্থাপনসহ যারা ভাংচুর করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

(ঊষার আলো-এমএনএস)