কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশে

এমপি বাবুর ওপর হামলা চেষ্টার তদন্ত কমিটি এখন কয়রায়

সর্বশেষ আপডেটঃ
ছবি : কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশে এমপি বাবুর উপর হামলা চেষ্টা ঘটনার তদন্ত কমিটি এখন কয়রায়।

কয়রা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির নির্দেশে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্তদল এখন কয়রায় অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদীর বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলে স্থানীয় জনতা স্বেচ্ছাশ্রমে বেঁড়িবাঁধ নির্মানের চেষ্টা করে। এ অবস্থায় কয়রা পাইকগাছার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান বাবু ও কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ রবিউল হোসেনসহ একাধিক দলীয় নেতাকর্মী ১ লা জুন মঙ্গলবার ট্রলারযোগে ঘটনাস্থলে পৌছালে উচ্ছশৃঙ্খল কিছু লোকজন সংসদ সদস্যের উপর হামলার পরিকল্পনা করে। অতঃপর ঘটনাটি ২০ তেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল করে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী একটি গ্রæপের মদদ পুষ্ট বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী সমার্থকরা। এদিকে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ও পুলিশের উপর ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করতে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি মঙ্গল ও বুধবার সরোজমিনে তদন্ত করে চলেছেন। গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক খুলনা জেলা আওয়ামলিীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাডঃ এমএম মজিবর রহমানসহ কমিটির অন্যান্যরা হলেন জেলা আওয়ামীূলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব সরফুদ্দীন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম খালেদীন রশিদী সুকর্ন, জেলা দপ্তর সম্পাদক এম রিয়াজ কচি ও জেলা সদস্য অসিত বরন বিশ্বাস। উক্ত কমিটি মঙ্গলবার কয়রা উপজেলা ডাকবাংলায় দুপুর থেকে তদন্তের কাজ শুরু করে এবং উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী, উপজেলা প্রশাসন, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশিল সমাজ, দলের তৃর্ণমুল নেতাকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বক্তব্য সংগ্রহ করেন। গঠিত কমিটি বুধবার সকালে ঘটনাস্থল দশালিয়া বেঁড়িবাঁধ সরোজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে উল্লেখিত ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এ বিষয় উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মী পরিচয় গোপন করা শর্তে জানান, কয়রা উপজেলা আওয়ামীলীগের বারবার নৌকার বিদ্রোহীরা বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বড় বড় পদে অবস্থান করছেন। সে
কারনে পরিক্ষিত নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী এমন একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার সময় সংসদ সদস্যের ট্রলার বাঁধে অবস্থান করার মহুর্তে দলের কতিপয় ব্যক্তির নির্দেশে উচ্ছশৃঙ্খল লোকজন সংসদ সদস্যকে কাদা ছুড়ে ট্রলার থেকে না নামার হুমকী দেন। যাহা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে রয়েছে বলে তারা জানান। এ প্রসঙ্গে বুধবার বিকেলে তদন্ত কমিটির আহবায়ক এ্যাডঃ এমএম মজিবর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সুষ্টু তদন্তের সার্থে কয়রায় ২ দিন অবস্থান করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলে তার দলের অপর ৪ সদস্য সহ তিনি মঙ্গলবার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি (যিনি ঘটনার দিন ট্রলারে ছিলেন) আনোয়ার ইকবল মন্টুর নিকট সাক্ষ্য গ্রহনের মধ্য দিয়ে ঐ দিন কয়রায় ডাকবাংলায় গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি, উপজেলা প্রশাসন, সাধারণ জনগন, প্রতক্ষ্যদর্শী জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহনও করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তের শেষে সঠিক তথ্য আমরা গঠিত কমিটি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির নিকট হস্তান্তর করব এবং ঘটনার বিষয়ে কোন সত্য গোপন করা হবে না।

(ঊষার আলো-আরএম)