এ্যান্ড্রয়েট ফোনের আসক্তি: নষ্ট হচ্ছে সামাজিক বন্ধন, বাড়ছে অবক্ষয়

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক :বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান আর উন্নত প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে বেশ উন্নত করতে বড় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমাদের আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প যেন কিছুই নেই। আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে এতই সমৃদ্ধশালী করে তুলেছে যে আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় বস্তু গুলো আমাদের হাতের নাগালেই। বিশেষ করে আর্শিবাদ স্বরূপ উন্নত প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান সবচেয়ে উন্নত করেছে আমাদের যোগাযোগ মাধ্যমকে।
সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ্যান্ড্রয়েট ফোনে ব্যবহৃত অ্যাপ ফেইসবুক, হোয়াটাস্ অ্যাপ, ইমো, ম্যাসেনজার, ভাইবার, আর লাইকি যেন কারো সাথে দু’মিনিটেই যোগাযোগ করে দিচ্ছে। এরই সাথে রয়েছে লাইকি, ইউটিউব, আর বিভিন্ন প্রকার গেমস্সহ বেশ কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তির অ্যাপ। তবে যোগাযোগ মাধ্যমের এই উন্নত প্রযুক্তিগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অতি সহজতর করে তুললেও, সামাজিক বন্ধন ছিন্নে বেশ বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। এমনই কথা বলেছেন নগরীর সাধারণ মানুষ।
খুলনা ৫ নম্বর ঘাটের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা শ্রমিক খলিল সুমন বলেন, আমাদের সময় আমরা গায়ে গ্রামের মাঠের সুগন্ধি কাঁদা মেখে হা-ডু-ডু, কুস্তি আর লাগতাম। ঘুড়ি উঠানো, ঘোড়া দৌড় আর নানা সামাজিক অনুষ্ঠান করতাম। বর্তমানে সে সব ওঠে গেছে, এখন মোবাইল সকল বিনোদন কেন্দ্র।
নগরীর বয়রা ভাঙ্গাপোলের বাসিন্দা সোহেল পারভেজ, চাকুরী করেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। বের হন সকাল ৮ টায় আর ফিরতে ফিরতে রাত ১০ টা। বাড়িতে স্ত্রী ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে স্বামীর অপেক্ষার বসে থাকে। অবশেষে স্বামী বাড়ী ফিরে কোন রকম নাকে মুখে খেয়ে ফোনটি হাতে নিয়ে ফেইসবুকে লাইক আর কমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত এমন মন্তব্য তার স্ত্রীর। এতে যেন পারিবারিক বন্ধন প্রায় মৃত হতে চলেছে।
তাছাড়া স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা বন্ধুদের সাথে গভীর রাতে পর্যন্ত কথা বলা বা ফেইসবুক বা ম্যাসেনজারে সাড়া দেয়া, গেম খেলা যা সময়ের সাথে সাথে কান্তি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে। কম ঘুমও শিা জীবনকে ব্যহত করে, যেহেতু লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে খুব বেশি ঘুমের প্রয়োজন। অতএব, এটির একটি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে যা তাদের জীবনের সমস্ত স্তরে প্রবেশ করে। যা স্থূলতা ও অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। বিজ্ঞানের দাবি, মোবাইল ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস মাত্রাধিক ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি করে যা শরীরে ও মানসিক বিকাশে ভারসাম্যহীনতায় ভোগায়।
গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বরকত আলী বলেন, মোবাইল বাচ্চাদের জন্য মানসিক ও স্বাস্থ্যর জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন । মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে বাচ্চারা ধীরে ধীরে পরিবার-পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া রেডিও ম্যাগনেটিভ ইফেক্ট, চোখের ক্ষতি, ব্রেইন পাওয়ার লেস, ব্রেইন ফাংশন ডিসকানেক্ট করে দেয়। এ্যান্ডুয়েট ফোন কেবল শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা নয় ববং সামাজিক অটুট বন্ধনে বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে ফলে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়।