করোনার মধ্যে ডেঙ্গুতে শঙ্কা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ঋতু বদলের পালায় চলছে বর্ষার শেষ সময়। বৃষ্টিপাতের কারণে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহভাবে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু, যা এডিস মশা বহনকারী। বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া আর্দ্র থাকে। বর্ষাকালে বায়ুবাহিত, পানিবাহিত এবং মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। যে কারণে বর্ষায় ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা বাড়ে। সাধানরত নির্মাণাধীন ভবনের অস্থায়ী চৌবাচ্চা, মেঝেতে জমিয়ে রাখা পানি এবং ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সংক্রমনের আতংকে সারাদেশ। এর মধ্যে আবার পত্র-পত্রিকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তসহ মত্যুর খবরে নতুন করে আতংকিত হয়ে পড়ছে নগরীর দৌলতপুরবাসী। বিশেষ করে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন বিভিন্ন এলাকার পঁচা-নর্দমা আর বর্ষায় জমা খানাখন্দের পানি, সংর্কীন ড্রেনের জলবদ্ধতা বাড়িয়ে তুলছে এই ডেঙ্গু রোগের আতংক।

সরেজমিনে, দেয়ানা সরদার লেন সংলঘ্ন পঁচা নর্দমা, পশ্চিমপাড়া খালাপাড়, হোসেন শাহ্ রোড, দেয়ানা বাউন্ডারী রোড, মুকুল ভান্ডার, যশোর মোড়, মধ্যপাড়া, বালূর মাঠ, মোল্লাপাড়া, সবুজ সংঘ মাঠ, মোল্লার মোড়, বনিকপাড়া, মোল্লার মোড়, তিনদোকানের মোড়, আজ্ঞুমান রোড, খান রোড, কল্পতরু রোড, দক্ষিন কারিকর পাড়া, দৌলতপুর থানা সম্মুখ ড্রেন, মধ্যডাঙা প্রাইমারী স্কুল সংলঘ্ন, জিন্নাহ রোড, তেতুলতলা, নাপতিপাড়া, ইসলামবাগ রোডস্থ সংর্কীন ড্রেন সমূহে বর্ষার পানিতে দেখা দিচ্ছে জলবদ্ধতা। তাছাড়া হালকা বা মাঝারী বর্ষার পানিতে খুলনা-যশোর মহাসড়কের পূর্বপাশে বিশেষ করে দৌলতপুর বাজার চত্ত্বর বদ্ধ ড্রেন, সেইফ এন্ড সেইভ এর বিপরীত মুখে, দৌলতপুর রুপালী ব্যাংক চত্ত্বর সহ বিভিন্ন স্থানে সর্বক্ষনই পানিবদ্ধ থাকে। যা ডেঙ্গু ঝুকি বাড়াচ্ছে। যদিও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কেসিসি’র বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যহত হয়েছে। এছাড়া বর্জ্য নিষ্কাশন ও জলবদ্ধতা নিরসনে কেসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থপনা বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রশস্ত ড্রেন গুলোতে জলাবদ্ধতার রোধ হলেও সামান্য বৃষ্টিতে সংর্কীন ড্রেনগুলোসহ খানাখন্দে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা অনেকই ডেঙ্গুর বংশ বিস্তারের আতুর ঘর বলে মনে করছেন। নগরীর দৌলতপুরের অধিকাংশ এলাকায় পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় হয়ে পড়া, আশাপাশের বনজঙ্গল, আবাসিক গৃহস্থালীর ব্যবহৃত বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলাসহ ড্রেনেজ লাইন সংর্কীন আর দূর্বল হওয়ার দরুন যে জলবদ্ধতার বা নোংরা দুঃর্গন্ধ স্থান সৃষ্টি হচ্ছে মূলত এখান হতেই মশার লার্ভা বা বংশবিস্তার ঘটছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।

এ ব্যাপারে ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্ষাকাল তাই সকলকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন থাকতে হবে। ডেঙ্গু, চিকুনবুনিয়া প্রতিরোধ সহ ওয়ার্ডে নিয়মিত মশা নিধনে ফগার ও কামান মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের কাজ চলছে। তাছাড়া ওয়ার্ডে মশার লার্ভা ও ডিম নিধনের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যহত আছে।

এ ব্যাপারে কেসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আব্দুল আজিজ জানান, যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় শেষে দিকে তবুও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসি’র নিয়মিত কার্যক্রম অব্যহত আছে। মশা নিধনে লার্ভিসাইজ স্প্রে করা হচ্ছে। তাছাড়া বাসা বাড়ীর সংর্কীন ড্রেনগুলোতেও স্প্রে করা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)