নভেম্বরে চূড়ান্ত পরিদর্শনের সম্ভাবনা

করোনায় পিছিয়ে গেল শহর রক্ষাকারী বাঁধের বাস্তবায়ন প্রকল্প

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : ভৈরব নদ ঘেঁষে গড়ে ওঠা মহানগরীর ঐহিত্যবাহী দৌলতপুর বাজার। প্রতিদিনই কাঁচা সবজি ও মাছসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ বা খালাস করার জন্য দৌলতপুর বাজারস্থ পেঁয়াজঘাট, খেয়াঘাট, পুরাতন লঞ্চঘাট (বর্তমান কবিরাজ ঘাট) সহ অন্যান্য স্থাপনা চলাচলসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসলেও বিগত কয়েক বছর ধরে ভৈরব নদের ভাঙ্গন, জোয়ারের পানির চাপ, নদের রাক্ষুসি থাবায় ঘাটসহ অন্যান্য স্থাপনার একাংশ ভৈরব নদে সম্পূর্ণ বিলীন।

প্রতিদিনই ভোরে গাজীরহাট, কালিয়া, বড়দিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল হতে ক্ষুদ্রব্যবসায়ী খাদে ট্রলার ভিড়ায় যা বলতে গেলে আজ প্রায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এমন অবস্থায় মালামাল ওঠানামানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইতোপূর্বে নদী ভাঙ্গনে নদের গর্ভের বিলীন হয়ে গেছে শতাধীক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ঘাট, ১টি হলুদ ভাঙ্গার মিল, দৌলতপুর বহুমূখী সমবায় সমিতির অফিসসহ উল্লেখযোগ্য স্থাপনা।

সরেজমিনে, তীরবর্তী দোকানসমূহ, বিভিন্ন স্থাপনা ও স্থানীয় দৌলতপুর বাজার জামে মসজিদ বর্তমানে ভাঙ্গনের চরম হুমকির মুখে। যে কোন সময় এ সকল স্থাপনাগুলো নদীর গর্ভে বিলিন হওয়ার আতংকে দিন গুনছে ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা জানান, ভৈরব নদীর কবলে পড়ে দৌলতপুর বাজার ব্যবসায়ীরা তাদের অনেক স্থাপনা হারিয়েছে। বর্তমান সময়ে ও বেশ ঝুঁকির মধ্যে দিন নিপাতিত করা লাগছে। শুনেছি শহর রক্ষাকারী বাধের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তার অনিশ্চয়তায় দিনগুনছি আমরা ব্যবসায়ী মহল। কারণ জোয়ারের পানির চাপ আর ভৈরবের রাক্ষুসী থাবার কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো স্থাপনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অচিরেই রক্ষাকারী বাঁধ প্রকল্পের বাস্তবায়নেকল্পের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এ ব্যবসায়ী।

দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষে বাজারকে ভৈরবের ভাঙ্গনের হাত হতে রক্ষা করার লক্ষে কেসিসি শহররক্ষাকারী বাঁধের ব্যাপারে জার্মানী সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েও বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে পড়েছে।

কেসিসি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে শহর রক্ষাকারী বাঁধটি সংস্কারের ব্যাপারে কেসিসি জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থবরাদ্দে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করলেও করোনা সংকটের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, করোনা কারণেই মূলত এক বছর পিছিয়ে পড়েছে এ প্রকল্প।

এ ব্যাপারে কেসিসির চীফ প্লানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার জানান, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাথে শহর রক্ষাকারী বাঁধ প্রকল্পের বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি কারণে জার্মানী কনসালটেন্ট সরেজমিনে আসতে না পারার দরুন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন অসম্পন্ন রয়েছে। ইতিমধ্যেই জার্মানী টেকনিক্যাল টিমের ভিজিবিলিটি ও জিডাইন সম্পন্ন হয়েছে। তবে জার্মানের উচ্চপর্দস্থ টিম সরেজমিনে এসে সাইড পরিদর্শনপূর্বক সম্মতি প্রদান করলে কেসিসি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, করোনার কারনে শহর রক্ষাকারী বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে পড়েছে। উভয় দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসে চুড়ান্ত পরিদর্শন করার সম্ভবনা রয়েছে জার্মানী এ দলটির বলে জানান এ কর্মকর্তা। অচিরেই ভৈরব নদের ভূগর্ভে বিলীন হতে চলেছে ঐতিহাসিক দৌলতপুর বাজারের একাংশ রক্ষায় গৃহীত ব্যবস্থা না নিলে ভৈরব নদে বিলীন হবে খুলনা শহরের ঐহিত্যবাহী দৌলতপুর বাজারটি আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে শত-শত ব্যবসীয়া সম্মুখিন হবে অগনিত স্থাপনা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)