যানজটে নাকাল নগরবাসী

করোনা ঝুঁকি থাকছেই : খুলেছে দোকানপাট-শপিংমল

সর্বশেষ আপডেটঃ
শপিং মল -ফাইল ছবি

ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোনার ভাইরাসের শনাক্ত সহ মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো লকডাউন শেষে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে বুধবার (১১ আগস্ট) হতে শর্তসাপেক্ষে অফিস-আলাদত, যানবহন, দোকানপাট, শপিংমল খুলে দিয়েছে সরকার। এই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ লকডাউন শেষে নগরীর সকল স্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দ তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান খুলতে পরে বেশ স্বস্তিবোধ করছেন। করোনা ঝুকির মধ্যেও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান খুলতে পেরে প্রশাসনের জরিমানা আর চোর পুলিশ আতংক হতে মুক্তি পেয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে।

অপরদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর নগরজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পিকচার প্যালেস মোড়, খুলনা প্রেসক্লাব এলাকা, ডাকবাংলোমোড়, ময়লাপোতা মোড়, গল্লামারী মোড়, দৌলতপুর, বড় বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েন।
গত ৩ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিধান্তনুসারে প্রজ্ঞাপণ জারির মাধ্যেমে বুধবার হতে শর্তসাপেক্ষে অফিস-আলাদত, যানবহন, দোকানপাট, শপিংমল খুলে দিয়েছে সরকার । এই প্রজ্ঞাপনের আলোকে বাজার, দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট দশ ঘন্টা খুলে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপণে, দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট সকাল ১০ হতে রাত ৮টা পর্যন্ত সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। এছাড়া খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তারার দোকান অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। গণপরিবহন/যানবহন সমপরিমান যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে।, অফিস আলাদাত, মার্কেট, বাজারসহ গণপরিবহন বাজারসহ যে কোন প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য হলে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ববহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয় প্রজ্ঞাপণে। নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হচ্ছে সকল দোকানপাট, শপিংমল বিপনীকেন্দ্র। বৈশ্বিক মহামারি করোনা অর্থনৈতিক চাকার যে অবরুদ্ধতা ঘটিয়েছে তার যাতাকলের পিষ্টে আজব্দি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি নগরীর দৌলতপুরের পোশাক, শপিংমল, দোকানসহ গামের্ন্টস্ প্রতিষ্ঠানের মালিকগন।
সরেজমিনে, ১০ আগস্ট (মঙ্গলবার) কেসিসি মার্কেট, মোর্ত্তজা ম্যানশন, আফসানা ম্যানশন , দৌলতপুর বাজার সম্মুখ দোকান সমূহ, বেক ডি’ কেক, চানদীনা পট্টি, গার্মেন্টস্ পট্টি, আশা বস্ত্রালয়, প্রবীর ক্লথ স্টোর, শিহাব ফ্যাশন, আফসানা ম্যানশন, শীতল ফ্যাশন, আচল ফ্যাশন, অমি শপিংমল, মিশন এন্ড লিখন গার্মেন্টস্, সেইফ এন্ড সেইভ, জে.কে শপিং কর্ণার, নিউ কালেকশন, ফাস্ট চয়েজ, ফারিহা ফ্যাশন, রিয়াজ সু, সালমান সু, স¤্রাট সু, ওয়েলকাম সু, মের্সাস সংসার, সংসার সু, বাটা সু সহ সকল আধুনিক বিপনন কেন্দ্রসহ খাবারের দোকান, হোটেল রেস্তারাগুলো খোলার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানে মালিকগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ লকডাউন শেষে তাদের যে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা নেমে এসেছে তা কাটিয়ে তুলছে তারা অবশ্যই সরকারী নির্দেশিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখবে। কেনাবেচার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী হামিম জানান, দীর্ঘ লকডাউন শেষে সরকার যে শর্তসাপেক্ষে সবকিছু খুলে দিচ্ছে এতে করে আমরা অবশ্যই আইন অনুসারণ করে নির্ধারিত সময়ের কেনাবেচা করবো। দীর্ঘ লকডাউন শেষে পেছনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করে হবে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
দৌলতপুর বাজার উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নান্নু মোড়ল জানান, সরকার দীর্ঘ লকডাউন শেষে যে ১০ ঘন্টা দোকান ঘোষনা দিয়েছে এতে করে পিছিয়ে পড়া ব্যবসায়ীরা তাদের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে আমি মনে করি। যেহেতু লকডাউন শেষে শর্তসাপেক্ষে সবকিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে সুতারং সকলের উচিৎ সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি ও সময়সীমার মধ্যে দোকান পাট, শপিংমল, হোটেল রেস্তারা খোলা এবং বন্ধ রাখা। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কথা মাথায় রেখে ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়ইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচার অনুরোধ জানাচ্ছি।