কেসিসির আউট সোর্সিং শ্রমিকদের বেতনের টাকা কারচুপির ঘটনায় মামলা

সর্বশেষ আপডেটঃ
খুলনা নগর ভবন - সংগৃহিত

ঊষার আলো রিপোর্ট : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) আউট সোর্সিং কর্মচারিদের হাজিরাসহ বেতনের টাকা কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ জন্য তাকে ওই পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কেসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাফিজুর রহমানের মূল পদ ট্রাক শ্রমিক। বর্তমানে তিনি আউট সোর্সিং শ্রমিকদের সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে শতাধিক আউট সোর্সিং শ্রমিকের হাজিরার টাকা কম দেয়া, ভূয়া হাজিরা দেয়া, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শ্রমিকদের হাজিরা টিপ সই নিয়ম ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগে তাকে গত ৯ মে শোকজ করা হয়। তিনি ১৬ মে শোকজের জবাব দেন। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৭ মে কর্তৃপক্ষ কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিবুল আলমকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তে শ্রমিকদের স্বাক্ষর ব্যতিত টিপ সই দিয়ে বিল প্রদান করা হয়েছে। এতে করে হাফিজুর শ্রমিকদের বেতন কারচুপি করে নিজে আত্নসাৎ করেছে বলে প্রমাণিত হয়। গত ১৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট হাফিজুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলা দায়েরের পর হাফিজুর গত ১৫ সেপ্টেম্বর জবাব দাখিল করেন। এখন নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে কেসিসির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রধান মোঃ আজমুল হক জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হাফিজুরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা সময়ের ব্যাপার বলে তিনি জানান।

এদিকে তার ছেলে রাহাদ কলেজে পড়লেও তাকে আউট সোর্সিং কাজে নিয়োজিত দেখিয়ে প্রতিমাসে বেতন বাবদ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। তার স্ত্রী বিউটি বেগম কেসিসির মাস্টাররোল ঝাড়ুদার শ্রমিক। ২০নং ওয়ার্ডে তার ঝাড়ু দেয়ার দায়িত্ব থাকলেও তিনি বর্তমানে দেন না। তার পরিবর্তে অন্য একজন আউট সোর্সিং শ্রমিককে দিয়ে ঝাড়ুর কাজটি করিয়ে নেয়া হয়। এতে করে হাফিজুরের স্ত্রী একদিকে প্রতিমাসে কেসিসির নিকট থেকে বেতন পাচ্ছে আর তার পরিবর্তে আউট সোর্সিং শ্রমিকও কেসিসি থেকে বেতন নিয়ে চলেছে। একই কাজের জন্য কেসিসি দু’জনকে বেতন দিচ্ছে। এছাড়া আউট সোর্সিং শ্রমিকরা চার মাসের বেতন না পেয়ে আন্দোলনে নামেন। বিষয়টি মেয়র জানার পর তাদের বেতনের ব্যবস্থা করে দেন। বেতন না পাওয়ার জন্য আউট সোর্সিং শ্রমিকরা তখন হাফিজুরকে দায়ী করছিলেন। কারণ শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা চারশত টাকা হলেও তিনি তাদের হাজিরা দিতেন ৩৫০ টাকা করে।

আউট সোর্সিং সুপার ভাইজার হাফিজুর রহমান বলেন, তার স্ত্রী অসুস্থ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে অন্য লোককে দিয়ে ঝাড়ুদারের কাজ করানো হচ্ছে। এতে আইনগত কোন সমস্যা নেই বলে তিনি দাবি করেন। তার ছেলের বয়স ২১ বছর। সে কলেজে পড়ে। সে ১৭নং ওয়ার্ডে আউট সোর্সিং শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। যা ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজ প্যাডে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কোন টাকা আত্নসাৎ করা হয়নি। সিস্টেমে ভূল। শ্রমিকদের হাজিরা টিপ সই অনেক আগ থেকে নেয়া হয়েছে। তখন কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আপত্তি করেননি। এখন করলে তার কিছু করার নেই বলে তিনি দাবি করেন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)