খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল যৌথ কারখানা কমিটি’র সংবাদ সম্মেলন

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : ২০১৫ সালের মজুরী কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন উৎসব বোনাসের ডিফারেন্স, নোটিশ পে, লক ডাউনের টাকা ইত্যাদি পাওনার দাবিতে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল যৌথ কারখানা কমিটি’র সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মনির হোসেন মনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলা হয়, বিজেএমসি অধিভুক্ত ৫টি পাটকল (খালিশপুর জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, জাতীয় জুট মিলস, কেএফডি ও আর আর জুট মিলস)-এর আনুমানিক ১৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল। এই ৫টি মিল ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক বন্ধ করার পর জাতীয় নির্বাচনের ইস্তেহার অনুযায়ী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ মার্চ ২০১১ সালে পুনরায় চালু করেন। ফলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সুস্থভাবে জীবন-যাপন করছিলাম।

কিন্তু মহামারী করোনা কালে সরকার ২০২০ সালের ২ জুলাই তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ৩০ জুন ২০২০ তারিখ উল্লেখ করে বিজেএমসি কর্তৃক নোটিশ প্রদানপূর্বক বিজেএমসি অধিভুক্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে। বন্ধ ঘোষণা করার সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব বলেছিলেন যা বিজেএমসি’র নোটিশেও উল্লেখ ছিল। সকল শ্রমিকের বকেয়া পাওনা ২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু যথাসময়ে বকেয়া না পাওয়ায় শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার প্রায় ১ বছর পর স্থায়ী শ্রমিকদের এবং পরবর্তীতে বদলী শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে শুরু করে।

তবে এখনও ৬ সপ্তাহের মজুরী, উৎসব বোনাসের ডিফারেন্সসহ বেশকিছু পাওনা বকেয়া আছে। গেটপাসে নামের বানান ভুলসহ নানা অজুহাতে এখনও অনেক শ্রমিককে টাকা পরিশোধ করা হয়নি। সঙ্গতকারণে অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি বিজেএমসি’র পরিচালিত ৫টি পাটকলের শ্রমিকরা। উক্ত মিলগুলোর শ্রমিকদের কোনো পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। অথচ ২০১৫ সালের ‘মজুরী ও উৎপাদনশীলতা কমিশন’-এর ঘোষণা অনুযায়ী মজুরী কাঠামো মোতাবেক এই শ্রমিকরা মজুরী পেয়েছে।

সুতরাং বকেয়া এরিয়ারের অর্থ এবং একই সাথে ২০১৫ সালের মজুরী কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন উৎসব বোনাসের ডিফারেন্স, নোটিশ পে, লক ডাউনের টাকা ইত্যাদি আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য। কিন্তু প্রায় ১ বছর ৬ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমরা প্রাপ্য অর্থ পাইনি। তাই সরকারের ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী আমাদের বকেয়া এরিয়ার, গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের আওতায় প্রাপ্য অর্থ, ৬০ দিনের নোটিশ পে, উৎসব বোনাসের ডিফারেন্স, ২ মাসের লক ডাউনের টাকাসহ সকল পাওনা অবিলম্বে এককালীন পরিশোধ ও বন্ধকৃত সকল পাটকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু করার দাবি জানানো হয়।

এ সকল দাবী আদায়ের লক্ষে আগামী ১৩ অক্টোবর (বুধবার) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দৌলতপুর জুট মিলস গেটে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি, ২০ অক্টোবর (বুধবার) বেলা ১১টায় বিভাগীয় শ্রম পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ২৪ অক্টোবর (রবিবার) এসপি, শিল্প পুলিশ-৬ বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ২৯ অক্টোবর (শুক্রবার) খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে লাল পতাকা মিছিল পালন করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যের সমন্বয়ক রুহুল আমিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল যৌথ কারখানা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, যশোর-খুলনা বদলী আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, দৌলতপুর জুট মিল কারখানা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন, শ্রমিকনেতা শামস শারফিন শ্যামন, নাসিম উদ্দিন জয়, আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, শেখ গোলাম মোস্তফা, আবু বকর সিদ্দিক, ছাত্র ফেডারেশন মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ প্রমুখ।

(ঊষার আলো-এমএনএস)