খুলনার মোকামে আসা ইলিশের গড় ওজন এক কেজির নিচে

সর্বশেষ আপডেটঃ
ঊষার আলো প্রতিবেদক : এবারের ইলিশ মৌসুমে দ্বিতীয় দফায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দু’মাস পর খুলনার মোকামে বড় সাইজের ইলিশ আসছে না। এখানে এক কেজির ওপরে ইলিশের আমদানি কম। ৪নং ঘাট ও রূপসা ঘাটে আসা ইলিশের গড় ওজন এক কেজির নিচে। দ্বিতীয় দফায় ২৩ জুলাই’র পর ইলিশ আহরণের জন্য বঙ্গোপসাগরে যাত্রা করে। জেলেদের ভাষায় অন্যান্যবারের তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ছে। বড় ইলিশের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
৪নং ঘাটে অবস্থানরত জেলেদের ভাষ্য, নদীতে ইলিশের প্রবেশ পথে ও সাগরের মোহনায় বেহুন্দি, চড়াগড়া, ভাসা ও খুটিজালের মত ছোট ফাঁসের অবৈধ জাল পেতে এক শ্রেনীর জেলেরা রেখেছে। এই জাল অনেকটা বেড়ার মত। যেখানে জাল পাতা হচ্ছে সেখানেই দু’মাস পর চড়া পড়ছে। এই জালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ বঙ্গোপসাগরে ফিরে যাচ্ছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীরা জানান, বর্ষা মৌসুম ও অমাবস্যা-পূর্নিমায় ইলিশের আধিক্য দেখা যায়। এবার তার পরিমাণ কম। ইলিশ দল বেধে উপকূলের মিঠা পানিতে ফিরে যায়। তাছাড়া দাবদাহের কারণে ইলিশের ডিম ফোটেনি। ফলে এ অঞ্চলে যেন ইলিশের খরা পড়েছে।
খুলনা নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার, সান্ধ্য বাজার, নতুন বাজার ও থানার মোড়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ঝুড়িতে সাজানো ইলিশের গড় ওজন এক কেজি’র নিচে।
৪নং ঘাটের জনতা ফিসের প্রতিনিধি জানান, এবারে বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ আমদানির পরিমাণ অনেক কম। গতবারের তুলনায় এবার ৬০ শতাংশ ইলিশের আমদানি কম। বড় সাইজের মাছ আসছে খুবই কম। কারেন্ট জালের ব্যবহারের কারণে ইলিশের ডিম ও জাটকা ইলিশ নষ্ট হচ্ছে। যা আমদানি হচ্ছে তার একটি বড় অংশ বেনাপোল দিয়ে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। জনতা ফিস গত মঙ্গলবার একশ’ মণ মাছ বেনাপোল দিয়ে পেট্টাপোলে পাঠিয়েছে। গত বছর প্রতিদিন চারশ’ মণ ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে রপ্তানি হয়েছে।
মৎস্যজীবী দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রামের ওমর আলী শেখ জানান, গুনারী, পশুর ও শিবসা নদীতে এবার মাছের পরিমাণ কম। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা মেটানোর আগেই রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিরা নগদ টাকায় আড়ৎ থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পালন গত ২৮ সেপ্টেম্বের এক সেমিনারে উল্লেখ করেন, এবারে ইলিশের প্রাপ্যতা কম। মা ও জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। এ উদ্যোগ সফল করতে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময় খুলনা জেলার সাড়ে চারশ’ পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদ-নদীতে বছরে ১৪শ’ মেট্টিক টন ইলিশ আহরণ করা হচ্ছে।
বিএফডিসি’র খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো: রাসেল সিকদারের কাছে জানতে চাইলে বলেন, বড় সাইজের মাছ খুলনা মোকামে খুব কম আসছে। মাঝেমধ্যে মহিপুর ও বলেশ্বরের মাছ আসছে না। এবারে মাছের আমদানি অনেক কম। ওজনও কম। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে খুলনার মোকামে চারশ’ মেট্টিক টন ইলিশ আসে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ইলিশ মৌসুমে আটশ’ মেট্টিক টন মাছ খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আমদানি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আমদানির পরিমাণ ছিল সাতশ’ ৮০ মেট্টিক টন। এ বছরের আগস্ট মাসে ৬৯ মেট্টিক টন এবং সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত একশ’ ২৫ মেট্টিক টন ইলিশ আসে। গত বছর আগস্ট মাসে ৬৬ মেট্টিক টন ও সেপ্টেম্বর মাসে একশ’ ৬২ মেট্টিক টন ইলিশ আমদানি হয়।
(ঊষার আলো-আরএম)