খুলনায় পলিথিনের অবাধ ব্যবহার, হুমকির মুখে পরিবেশ

সর্বশেষ আপডেটঃ
পলিথিনে দূষিত হচ্ছে পবিবেশ - ঊষার আলো

ঊষার আলো প্রতিবেদক : পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার, উৎপাদন আইনে নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন থাকলেও ব্যবহার বন্ধ হয়নি পলিথিনের। নগরীর সর্বত্র বিশেষ করে অলিগলিতে, বাজারে, মুদি দোকানে দেদার মিলছে পলিথিন। কেন বন্ধ হচ্ছে না পলিথিন, কেন কমছে না এর ব্যবহার? পলিথিনের বিকল্প উপায়ই বা কী? এগুলো নিয়ে সর্বস্তরে সুধিমহলের সমলোচনার ঝড়। নগরীর পাইকারী ও খুচরা বাজারে প্রায় প্রতিনিয়তই ব্যবহার হচ্ছে পলিথিনের অবাদ ব্যবহার। খুলনার গল্লামারী সন্ধ্যা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রফিক। প্রতিদিন তিনি গড়ে এক হতে দেড় মণ সবজি বিক্রি করেন। আর এই সবজি বিক্রির বিপরীতে তাঁকে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হয় ছোট-বড় মিলিয়ে অনন্ত ১৫০-২০০ পিস পলিথিন প্যাকেট। রফিক জানেন, আইনগতভাবে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তারপরও ক্রেতাদের কাঁচা সবজি বহনের কথা ভেবে তাঁকে পলিথিন রাখতে হয়। ক্রেতারা পলিথিন ছাড়া প্যাকেট কিনতে চায় না। তাই অনেক সময় দু-এক কেজি সবজির জন্য পলিথিন দরকার পড়ে। এ কারণে ক্রেতারাও পলিথিন ব্যবহারে আগ্রহী।
শুধু গল্লামারী সন্ধ্যা বাজারের এই একটি দোকান নয়, প্রকাশ্যে পলিথিনের ব্যবহার মহানগরীর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান গুলোতে। আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও পলিথিন ব্যবহার থেমে নেই দৌলতপুরে । নগরীর বাজারগুলোতে পলিথিনের মজুদ, সরবরাহ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও বাজারের মাছ মাংস, মুদি দোকান, সবজির বাজার সহবিভিন্ন স্থানে সয়লাবে পরিপূন। বাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি হয় পাইকারি ও খুচরা পলিথিন ব্যাগ। সরেজমিনে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের পলিথিন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দৌলতপুর খুলনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুস্তাফা কামাল শাহাদত বলেন, পলিথিন হলো একটি নন-বায়োডিগগ্রেটেবল বস্তু যা সহজে পচনশীল নয়। পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশে অবিকৃত থাকার দরুন মাটিতে যে পচনশীল ব্যাকটেরিয়া থাকে তা বাধাগ্রস্থ হয় এবং মাটিতে পচনশীল কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাষনে পলিথিন চরম ক্ষতি সাধিত করে। এ থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। যা ভূ-গর্ভস্থ পানির সাথে মিশে পানিকে দূষিত করে পাশাপাশি ভূ-গর্ভস্থ জীব ও বিচিত্রকে হুমকির মুখে ফেলে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
পলিথিন বন্ধ ও নিষিদ্ধের ব্যাপারে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা অধিকাংশই মাছ, মাংশ, সবজি ,ফলসহ বিভিন্ন দোকানগুলোতে গণহারে পলিথিন ব্যবহার চলছে। যা আমাদের পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতি। পলিথিন ব্যবহার সহজ হলেও এটি বর্তমানে পরিবেশ ও পানি নিষ্কাষনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তায় বর্তমানে পলিথিন নিষিদ্ধের আইনটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কাযালয়ের পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, পলিথিন নিষিদ্ধের আইন প্রণয়নের পর তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ফলে বিকল্পের চাহিদা দেখা দেয় এবং তা বাজারে চলে আসে। পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। নগরীতে বর্তমানে পলিথিনের ব্যবহার অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এ বিষয়ে আমি অবগত। দ্রুতই পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ হতে পলিথিন বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে।
পাটকন্যা হিসাবে খ্যাত গ্রীণ নারী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও দৌলতপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছাকেরা বানু বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পলিথিন অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবন আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাট পণ্যের বিকল্প কিছু নেই।