খুলনায় চাউলের বাজারে আগুন; কেজিতে বেড়েছে ৩/৪ টাকা

সর্বশেষ আপডেটঃ

৫০ টাকার নীচে কোন চাউল নেই; মোটা চাউল বাজার থেকে উধাও

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনায় চাউলের বাজারে যেন আগুন ধরেছে। ৫০ টাকার নীচে কোন চাউল পাওয়া যাচ্ছে না। দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষেরা। মৌসুমে চাউলের দাম কমার কথা থাকলেও এবার হয়েছে উল্টোটা। করোনাকে পুজি করে অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে চাউলের দাম বাড়িয়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা মনে করেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, চলমান বোরো মৌসুম। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে এ ধান ওঠে। এ সময় চালের দাম স্বাভাবিক কেজিতে ৮/১০ টাকা কমে থাকে। কিন্তু এবার হয়েছে উল্টোটা। সুপার মিনিকেট চাউল (হরিণ) এখন বিক্রি হচ্ছে ৫১/৫২ টাকা। মৌসুমে এ চালের দাম ৪৪ টাকার থাকার কথা থাকলে ছিল ৪৭ টাকা। ১০/১২ দিনের ব্যবধানে পাইকারী বাজারে এ চালের দাম বেড়েছে। ২৮ চালের দাম থাকার কথা ছিল ৪২ টাকা। ছিল ৪৪ টাকা। দাম বেড়ে এখন দাড়িয়েছে ৫২ টাকা কেজি। মিনিকেট (উত্তর বঙ্গ) থাকার কথা ছিল ৪৮/৫০ টাকা, ছিল ৫২/৫৩ টাকা। তা বেড়ে এখন হয়েছে ৫৬/৫৭ টাকা(পাইকারী)। কাজল লতা চালের দাম থাকার কথা ৪২/৪৩ টাকা কেজি, তা ছিল ৪৬/৪৭ টাকা কেজি। এখন বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা (পাইকারী)। কাটারি সিদ্ধ চালের দাম থাকার কথা ছিল ৪৪/৪৫ টাকা কেজি। কিন্তু ছিল ৪৭/৪৮ টাকা কেজি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫২ টাকা কেজি। বাশমতি চালের দাম থাকার কথা ছিল ৫৪/৫৫ টাকা কেজি(পাইকারী)। কিন্তু তা ছিল ৫৮ টাকা। এখন বেড়ে তা হয়েছে ৬৪/৬৫ টাকা কেজি। স্বর্ণা মোটা চাল। যে চালের ক্রেতা মূলত দরিদ্র মানুষ। সে চাল এখন বাজার থেকে উধাও। মিলের কেনা চাল নেই। সরকারি গোডাউনের চাল বিক্রি হচ্ছে দোকানে। তা ৪৫/৪৬ টাকা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৫০ টাকা কেজি। ধানের দাম অনুযায়ী এ চালের মূল্য অসহনীয় পর্যায়ে বেড়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা মনে করেন। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারি গোডাউনে চাল যাচ্ছে। যার কারণে উৎপাদনে ঘাটতি পড়ে যাচ্ছে। এছাড়া মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীরা চাহিদা তুলনায় বেশী চাল মজুদ করেছে। সর্বশেষ করোনা সংকটের অজুহাতে মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি করেছে বলে খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেটের খুচরা চাল বিক্রেতা শফিউল আজম আদুসহ অনেকে মনে করেন। দৌলতপুরের পাইকারী চাল ব্যবসায়ী সোনালী ট্রেডার্সের মালিক ডিএম আলাউদ্দীন বলেন, ধানের দাম বেড়েছে বলে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। মিনিকেট, বাশমিতসহ কয়েক পদের চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এ দাম বেড়েছে। তবে মোটা চালের দাম বাড়েনি বলে তিনি দাবি করেন।
(ঊষার আলো-এমএনএস)