খুলনায় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন দৌরত্য

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : নগরীতে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে। কোনভাবে এসব ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোর দৌরাত্ম থামছেনা। করোনাকালীন এই নির্দয় মুহুর্তেও থেমে নেই হাসপাতালগুলোর গলাকাটা বাণিজ্য। যে যেমন পারছে সে তেমনভাবে কোন রকম বাড়ি ভাড়া করে চালিয়ে যাচ্ছে এই চিকিৎসা সেবার নামে গলা কাটা বাণিজ্য। নগরীর শতকরা আশি ভাগ এসব ব্যক্তিগত ডায়াগনিস্টক সেন্টারগুলোর নেইস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন, নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। অভিযোগ রয়েছে কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,সরকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারিদের হাতে রেখে এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলো ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে রোগীরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলেও সঠিক নির্ভুল রিপোর্ট হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এক ডায়াগনিস্টিক সেন্টার থেকে একই পরীক্ষা অন্য ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে করতেই আসছে ভিন্ন-ভিন্ন রিপোর্ট। এমনকি সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারিরাও এখন ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়েছে।

সরোজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে, অলি-গলিতে বাহারী প্যানা ফেস্টুন দিয়ে ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের নামসহ লেখা রয়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নাম, পদবি ডিগ্রিসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ। তবে এসব চিকিৎসকদের অনেকে সাথে ডায়াগনিস্টিক সেন্টার মালিকদের গোপন অর্থের চুক্তি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এসব ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালে নেই ডিপ্লোমাধারী নার্স, নেই দক্ষ টেকনেশিয়ান, এ্যাম্বুলেন্স ও বর্জ্য অপসারনের সু-ব্যবস্থ্যা। তবে এসব ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোতে রয়েছে মার্কেটিং পর্যায়ে নিয়োগ প্রাপ্ত দালাল। আর এসব দালালদের কাজ সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে আসা। যে কারণে অধিকাংশ রোগী সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কতিপয় অসাধু চিকিৎসকদের অতিরিক্ত পরীক্ষার ফাদে পড়ে অর্থ খুইয়ে দিশেহারা অসাহায় গরীব রোগীরা। তবে এসব ব্যাঙের ছাতার মত অবৈধ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন খুলনার চিকিৎসকবীদরা।

এ বিষয়ে শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ও খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ আলী হোসেন বলেন, নগরীতে হঠাৎ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ছেয়ে গেছে। তবে অধিকাংশ এসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোর নেই অনুমোদন। যে কারণে অধিকাংশ সময়ে রোগীরা জরুরী অসুস্থ্য মুহুর্তে সঠিক সেবা পাচ্ছেনা। তাছাড়া এসব ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলো দালাল দ্বারা নিয়ন্ত্রণ থাকে। পাশাপাশি কতিপয় চিকিৎসক অর্থের লোভে এসব ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাতে উৎসাহ করেন। তবে দ্রুত সব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টি সেন্টারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা নিতে হবে। না হলে ভবিশ্যতে ভুল চিকিৎসা অনেক অসহায় মানুষের প্রাণের হুমকি থেকে যাবে।

এ বিষয়ে খুলনা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনিস্টক সেন্টার এ্যসোশিয়ানের সভাপতি ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে আধুনিক হচ্ছে চিকিৎসা সেবা প্রতিটি মানুষের একটি মৌলিক চাহিদা। তবে খুলনায় যেসব অবৈধ প্রাইভেট হাসপাতালও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার রয়েছে এদের পাশাপাশি এরা সরকারি নিতী মালা উপেক্ষা করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করতে হবে।এসব জঞ্জালগুলো সামান্য অর্থের বিনিময়ে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। তাছাড়া শহরের তুলনায় উপজেলা পর্যায়ে এসব ব্যক্তিগত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর অবস্থা অনেক খারাপ।এসব জায়গায় কর্তৃপক্ষর তদারকি অভাবে ইচ্ছামত রোগীদের সাথে প্রতারোণা করছে। তাই একজন অত্যন্ত সাধারণ নাগরীক হিসেবে কর্তৃপক্ষর নিকট দাবি সরকারিভাবে দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা গ্রহন করুন। অনেক রোগী প্রাথমিক অবস্থায় দাললালদের মিষ্টি কথায় কম খরচে মনে করে এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে চলে এসে প্রতারোণার শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন খুলনা বিভাগসহ জেলা পর্যায়ে অবৈধ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান চলছে। গেল কয়েক দিন আগেও রূপসার একটি হাসপাতাল আমরা র‌্যাবের সহযোগীতায় সিলগালা করেছি। তাছাড়া আমাদের কাজে সঠিক তথ্য প্রদান করলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থ্য গ্রহন করব।

(ঊষার আলো-এমএনএস)