খুলনায় মৎস্য সম্পদের বর্তমান অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে সেমিনার

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষে খুলনা জেলার মৎস্য সম্পদের বর্তমান অবস্থা ও করণীয় বিষয়ক সেমিনার মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে খুলনার গল্লামারীস্থ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রহমান খান।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, মৎস্যখাত জাতির জন্য নিরাপদ আমিষের চাহিদা পূরণ করছে। এক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদকে দীর্ঘ মেয়াদে কাজে লাগাতে হবে। মাছ চাষের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। টেকসই প্রযুক্তি আবিষ্কারের জন্য অধিকতর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের জিডিপিতে মৎস্যখাতের অবদান ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ে এই খাতের অবদান এক দশমিক ৩৯ শতাংশ। দুই কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশের যোগানদেয় এই খাত। খুলনা জেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে এক লাখ ১২ হাজার পাঁচশত ৪৯ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে যা জেলার চাহিদার তুলনায় ৩২ হাজার নয়শত ৭০ মেট্রিক টন বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৩ হাজার সাতশত ২৭ মেট্রিক টন মাছ বিদেশে রপ্তানির বিপরীতে দুই হাজার চারশত ১৫ কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মূদ্রা আয় হয়েছে। করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা জেলার নয় হাজার আটশত ৫৮ জন মৎস্য চাষিকে ১৪ কোটি ২০ লাখ ১৩ হাজার টাকার সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে। সেমিনারে মৎস্য খাতের চ্যালেঞ্জ হিসেবে মাটি ও পানি দূষণ, প্রবাহমান জলাশয়ে বাঁধ-পাটা-ক্ষতিকর জাল ব্যবহার, অতিমাত্রায় মৎস্য আহরণ, নদী ও প্লাবনভূমি কমে যাওয়া, সনাতন পদ্ধতির চাষসহ অন্যান্য বিষয়ে উঠে আসে।

মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নারায়ন চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুর রউফ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল।

সেমিনারে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, মৎস্যচাষিরা অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্যাপন বিষয়ক খুলনা জেলা কমিটি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)