খুলনায় সিরিজ বোমা হামলায় ৫ মামলার বিচার আজও শেষ হয়নি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী একযোগে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ, জেএমবি। সিরিজ বোমা হামলায় সারা দেশের ন্যায় খুলনাতেই ছিল ১০টি স্পট। এই হামলার ঘটনায় খুলনার বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত ৬টি মামলার মধ্যে একটি মামলার বিচারকার্য  শেষ  হলেও অপর ৫টি মামলার বিচারকার্য আজও শেষ হয়নি।

জানা গেছে, এই সিরিজ হামলার ঘটনায় খুলনায় সদর থানায় দুটি, দৌলতপুর থানায় দুটি, সোনাডাঙ্গা থানায় একটি ও বটিয়াঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে খুলনা সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর। ২০০৮ সালের ১২ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় । সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ওই বছর ২২ জুলাই। এ মামলায় সাক্ষী রয়েছে ৪৭ জন।

দৌলতপুর থানার সিরিজ বোমা হামলার মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২০ মে। সাক্ষী ২৯ জন। সোনাডাঙ্গা থানার সিরিজ বোমা হামলার মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২৯ জুন। এ মামলায় ৩৯ জন সাক্ষী রয়েছে। খুলনা সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হচ্ছে, শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাই, শহীদুল্লাহ ওরফে লোকমান, মাহবুবুর রহমান ওরফে লিটন ওরফে পলাশ, আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদুল ওরফে আরিফ ওরফে আসাদ, মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর, খালিদ হাসান ওরফে মন্টু, হাফেজ মাহমুদ ওরফে হাসান ওরফে সুমন ও সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে শায়খ আব্দুর রহমান এবং সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে।

ঊল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট খুলনাসহ দেশের ৬২ জেলায় একযোগে কমপক্ষে পাঁচশ জায়গায় বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে জেএমবির জঙ্গিরা। হামলায় আইনজীবী, বিচারক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ হতাহত হন।

ওই দিন জেএমবির জঙ্গিরা খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিমের এজলাসের সামনে, এজি পেনশন অফিসের পেছনে, ডাকবাংলো জামে মসজিদের পাশে, রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে, দৌলতপুরের বিএল কলেজের পূর্ব পাশে এবং সরকারি শিশুসদন এলাকায়, সোনাডাঙ্গা কেডিএ নিউমার্কেটের সিঁড়িঘরে ও লতিফ ফিলিং স্টেশনের পাশে, বটিয়াঘাটা উপজেলার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসের পাশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বোমার স্প্লিন্টার ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আল আমিন জানান, খুলনায় সিরিজ বোমা হামলার ৩টি মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন করে স্বাক্ষ্য গ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাক্ষ্যও দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পথে। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম ভার্চ্যুয়াল ও সীমিত হওয়ায় মামলার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

(ঊষার আলো-আরএম)