খানজাহান আলী থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি

চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি

সর্বশেষ আপডেটঃ

শেখ বদরউদ্দিন : প্রতি রাতেই এলাকায় চুরি, ডাকাতির, ছিনতাই বৃদ্ধি। আফিলগেটস্থ বাইপাস মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে থানা এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) দিনগত রাত ২টার সময় বাইপাস সড়কের ওয়াসার সামনে বন্দকৃত ইর্ষ্টান জুট মিলের শ্রমিক আলিমউদ্দিনের বসতঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে গোয়াল ঘর থেকে ৪টি গরু বের করে চোরেরা, পিকআপে তোলার সময় দু’টি বাচ্চা চলে গেলেও প্রায় আড়াইলক্ষ টাকার দু’টি গরু নিয়ে যায় চোরেরা, ভুক্তভোগী এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। একইদিনে বাইপাসে রেজাউলের হোটেলের সামনে গ্যাসের গাড়ীর ট্রাক ড্রাইভার এর কাছ থেকে নগদ ৪২ হাজার টাকা ছিনতাই করে মটরসাইকেলে পালিয়ে যায় পূর্বে ওৎপেতে থাকা ২ ছিনতাইকারী। ওই দিনেই (সোমবার) রাতে আটরা আফিলগেট বাইপাশ সড়কে আইয়ুব আলীর নির্মাণাধীন বাসভবনে দুর্ধষ চুরি সংঘঠিত হয়। যোগিপোল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সুলতান মুন্সির বাড়ির ভাড়াটিয়া ডাঃ দিপংকর তালুকদার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দিনদুপুরে গেটের তালা ভেঙ্গে গত ১ আগষ্ট বেলা ১১টার সময় অভিনব কায়দায় চোরেরা ২টা স্বর্নের চেন, ১টি স্বর্নের লকেট, ১টা স্বর্নের আংটি, ১টি নাকফুল, ৭ ভরি রুপা, ১টি এনড্রুয়েট মোবাইল সেটসহ প্রায় দেড়লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দেয় চোরেরা।

ভুক্তভোগী ডাঃ দিপংকর তালুকদার বলেন ১ আগষ্ট দিনে দুপুরে চুরির ঘটনায় ঐদিনই থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও অদ্যবধি চুরি হয়ে যাওয়া মালামাল বা ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পারেনি পুলিশ । ৫ আগষ্ট গিলাতলা কেডিএ আবাসিক এলাকার আনন্দ নিকেতন মডেল স্কুলে চুরি করার সময় স্থানিয়রা ১ চোরকে হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। গত ৪ আগষ্ট শিরোমনি বাজারে মেসার্স গাউছ এন্টার প্রাইজ (গ্যাসের দোকান) এর ক্যাশ থেকে দুপুর পৌনে ২ টার সময় ৭৮ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয় প্রতারক চক্র, শিরোমনি কেডিএ মার্কেটের মেসার্স মাশআল্লাহ এন্টারপ্রাইজ (সিগারেটের পাইকারি দোকান) গত ৩০ মার্চ রাতে শার্টারের তালা ভেঙ্গে নগদ ১২ লক্ষ টাকা ও ২২ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট নিয়ে যায় চোরেরা দোকানের মালিক শাহাজাদা এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করে।

সচেতন মহল মনে করেন, থানা এলাকায় মাদকের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় চুরি ডাকাতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। মাদক বিক্রিতে কোনো প্রকার বাধা না থাকায় এবং দ্রুত অনেক টাকার মালিক হওয়ার লোভে গিলাতলা সহ থানা এলাকায় নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ী তৈরি হচ্ছে। আর মাদক সেবনের টাকা জোগার করতেই এলাকার চুরি ডাকাতি করে নেশাখোররা,অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে খানজাহান আলী থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

এলাকাবাসীরা জানায়, চুরি-ডাকাতি রোধে পুলিশি তৎপরতা না থাকায় বেড়েছে এসব ঘটনা। বেড়েছে চুরি , ছিনতাইসহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। বাদামতলার ব্যবসায়ি হারেছ আলি বলেন গত ৮ আগষ্ট রাত সাড়ে ১১ টার সময় ফুলবাড়ীগেট থেকে ঔষধ কিনে বাসায় ফিরছিলাম পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার পার হবার পর মটর সাইকেলে করে ২ যুবক পথ গতিরোধ করে আমার কাছে থাকা নগদ ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেকের মুল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেলেও অনেকেই অযাথা ঝামেলা এড়াতে থানা পুলিশের কাছে যায়না। অনেকে এসব বিষয়ে থানা পুলিশের কাছে মামলা দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেনা এবং চুরি হয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার হচ্ছেনা বলে জানান।

এ বিষয়ে কেএমপির দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার বর্মন জানান ডাকাতি ও চুরির সংখ্যা তেমন নয়, পুলিশ সব সময় অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে, এ সকল ঘটনার সাথে সাথে থানা পুলিশকে অবহিত করলে বা অভিযোগ দিলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)