তালায় ১১টি ইউপি নির্বাচন উৎসবমূখর পরিবেশে সম্পন্ন

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৫, বিদ্রোহী ২, বিএনপি ২, অন্যান্য ২জন নির্বাচিত

সর্বশেষ আপডেটঃ

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা : বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া স্বচ্ছ ও উৎসবমূখর পরিবেশে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি আর হাটু সমান কাঁদা-পানি উপেক্ষা করে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যেয়ে ভোট প্রদান করেন।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনের কড়া নজরদারীর মধ্যে উপজেলার ১১টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি এবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচন বয়কট করায় উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। এছাড়া জামায়াত এবং আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫জন, বিএনপি (স্বতন্ত্র) ২জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ১জন, জামায়াতের (স্বতন্ত্র) ১জন এবং আওয়ামী লীগের ২জন বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে সব চেয়ে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে উপজেলার ৯নং খলিশখালী ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোজাফফর রহমান মাত্র ১০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তালা উপজেলায় নির্বাচন কমিশন এই প্রথম ৫নং তেঁতুলিয়া, ৬নং তালা সদর এবং ১২নং খলিলনগর ইউনিয়নে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন করেন। নির্বাচন শেষ ১১টি ইউনিয়নের জন্য নিযুক্ত ৫জন রিটার্নিং অফিসার সোমবার গভীর রাত অবদি স্ব-স্ব ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষনা করেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার রাহুল রায় জানান, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে ৪৯জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪শ ৪৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন।

নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে ধানদিয়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম আনারস প্রতিক নিয়ে ৫ হাজার ৩৫৬ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বনিন্দ্ব (স্বতন্ত্র) মটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দিদারুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৭২ ভোট। আর নৌকা প্রতিক নিয়ে মাস্টার শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭৩ ভোট।

নগরঘাটা ইউনিয়নে নৌকা প্রতিক নিয়ে মো. কামরুজ্জামান লিপু ৭ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে আবারও বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্দ্বি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৭১ ভোট।

সরুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দৈনিক সংবাদ’র সাংবাদিক মাষ্টার আব্দুল হাই (স্বতন্ত্র) মটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে ৫ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি একই দলের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রব পলাশ (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ২৯৫ ভোট। এছাড়া এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান নৌকা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৫১ ভোট।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এম.এম আবুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতিক নিয়ে ১১ হাজার ১৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত নেতা ডা. শেখ আফতাব উদ্দিন (স্বতন্ত্র) চশমা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৩০৬ ভোট। তালা সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতিক নিয়ে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সরদার জাকির হোসেন ৭ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্দ্বি জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস.এম নজরুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ১১৯ ভোট।

ইসলামকাটি ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম ফারুক (স্বতন্ত্র) চশমা প্রতিক নিয়ে ৪ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্দ্বি বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুভাষ সেন নৌকা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৫ ভোট। মাগুরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের গনেশ দেবনাথ নৌকা প্রতিক নিয়ে ৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্দ্বি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হিরন্ময় মন্ডল হাতুড়ি প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪৯ভোট।

খলিশখালী ইউনিয়নে ওয়ার্কার্স পার্টির অধ্যাপক সাব্বির হোসেন হাতুড়ি প্রতিক নিয়ে ৬ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান সাংবাদিক মো. মোজাফফর রহমান নৌকা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ১৭৫ ভোট।

খেশরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম লাল্টু (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতিক নিয়ে ৯ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্দ্বি আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রভাষক রাজিব হোসেন রাজু নৌকা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮৬ ভোট।

জালালপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা এম. মফিদুল হক লিটু (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতিক নিয়ে ৭ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের মো. রবিউল ইসলাম মুক্তি নৌকা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৫৬ ভোট।

এছাড়া খলিলনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু নৌকা প্রতিক নিয়ে ১০ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্দ্বি বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস.এম. আজিজুর রহমান রাজু (স্বতন্ত্র) আনারস প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৬৬ ভোট।

এবারের ভোট গ্রহন অবাদ ও নিরপেক্ষ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১টি ইউনিয়নে ১১জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৪ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম কেন্দ্রে কেন্দ্রে টহল দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখেন। এরমধ্যেও জালালপুর ইউনিয়নের ৩টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকের পক্ষে প্রায় ২ হাজার ভোট কাটা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোটের ব্যালট নিয়ে নৌকার সিল মারার সংবাদ পেয়ে পুলিশ তৎক্ষনাত বাঁধা প্রদান করলে দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে দু’জন পুলিশ সদস্যকে আহত করে।

এছাড়া একই ইউনিয়নের আটুলিয়া কেন্দ্রে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ দাসের নেতৃত্বে ভোট কাটার চেষ্টা করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তা প্রতিহত করে ভোট উৎসব নিশ্চিত রাখেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের হামলায় অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাসসহ ২জন গুরুতর আহত হন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)