চ্যালেন আই সেরা কন্ঠশিল্পী “নান্নু ”এখন সবজি বিক্রেতা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : নান্নু একটি সম্ভবনাময় উদীয়মান চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ ২০১৭ সালের প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করা দ্বিতীয় রানার্স প্রাপ্ত শিল্পী। বর্তমান বয়সটা ৩২ বছর। সে শুনেছে পিতৃনিবাস মাদারীপুরে। তবে জন্মটা মহানগরীর দৌলতপুর আজ্ঞুমান রোডের আমতলা মোড়স্থে। পরিবারে রয়েছে বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তান আর ছোট্ট তিনটি বোন। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করে বেড়ে ওঠাটা যেন অভিশাপ। তবে লেখাপড়ার হাল ছাড়েনি সে। তার পাশাপাশি কল্পতরু মার্কেটের পাশে সাইমুন আইসক্রীম ফ্যাকটরীতে আইসক্রীম বানানোর কাজ করেছে প্রায় ৮ বছর। গান যেন তার প্রাণ। জীবনে চলার পথে প্রতিটি মুহুর্তে গান যেন তাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। একই ফ্যাকটরীতে অন্যান্য ছেলেরা সব সময়ই ভাই একটা গান শোনান না বলে পাগল করে তুলতো। তাই বাধ্যহয়ে শুনাতে হতো গান। কেবল এই ফ্যাকটরীতে নয়, বরং তার সুরেলা কন্ঠ মাতিয়েছে সমগ্র বাংলাদেশকে।
বাবা হালিম মোল্লা প্রায় ৪ যুগের মতো মাদারীপুর ছেড়ে দৌলতপুরে কাঁচা সবজির ব্যবসা করে চলেছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘাত-প্রতিঘাত আর সকল প্রতিবন্ধকতার মুখে ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। তবে ছেলে নান্নুর গানের প্রতিভার কথা লোকে মুখে সে অনেক শুনেছে। নিজে চেয়েছে ছেলে গান শিখে অনেক দূরে যাক। বাবার স্বপ্ন যেন নান্নু পূরন করতে চললো অবশেষে নিজ এলাকা দৌলতপুর ছেড়ে চ্যানেল আই সেরা কন্ঠের প্রতিযোগীতার অডিশনে নাম লেখালো আর শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলো নান্নু। যা সে কখনো কল্পনা করতে পারেনি, তাকে টিভিতে সারাদেশের লোক দেখবে আর দেখা হবে বাংলাদেশের আইডল কুমার বারী সিদ্দিকী, আহম্মেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, কুমার বিশ্বজিৎ, সামিরা চৌধুরী, আলাউদ্দিন আলী, মিতালী মুখার্জীর মতো গুণী শিল্পীদের সাথে। ভ্রমন করেছেও কয়েকটি দেশ। তারপর এ তরুন উদীয়মান শিল্পীর বাস্তব জীবন আজ ইতিহাস। সেদিনে সেই চ্যানেল আই তারকা আজ দৌলতপুর রেললাইনের ফুটপাতের সবজি ব্যবসায়ী। গেল বছর হঠাৎ স্ট্রোক করার কারণে হার্টে বসানো হয়েছে রিং। তাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাত লক্ষ টাকার মতো। যা তার চ্যানেল আই হতে আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রান্ত অর্থ। আজ যা শূন্য খাতার হিসাব। তবে জীবন আর জীবিকার তাগিদে নান্নু বসে থাকার ছেলে নয়, স্ট্রোকের পরও দেশের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন অঞ্চলে সংগীত পরিবেশন করে চালিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষনের দায়িত্ব। তবে করোনা নামক মহামারীর কারণে সংক্রমনের শংঙ্কা থাকায় সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানাদী বন্ধের কারণে সেদিনে সেই দেশ কাঁপানো সংগীত শিল্পী আজ দৌলতপুর রেল লাইনের পাশে ভাড়া নেয়া দোকানের সামান্য সবজি বিক্রেতা, সামনে সাজানো পেঁপে, পটল, উচ্চে, কচুরমুখি, বটবলী, বেগুন ,ঢেড়স, লাউ সহ প্রভৃতি সবজি। আজ হাতের গীটার, আর মুখের ভোকাল সাউন্ড রেখে হাতে পালা তুলে নিয়েছে আজ। সংগীত তারকা নান্নু বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া দেশের সকল মানুষ এই ক্ষুদ্র মানুষটিকে শিল্পী হিসাবে চেনে আর দেশের নাম করা গুনীজনদের মুখমুখি হয়েছি। জীবনে কোন কাজ ছোট নয়, আজ করোনা কারণে সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানাদী বন্ধ, তাই কেনই বা বসে থাকবো? বসে থাকলে তো পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষন চলবেনা তাই, সবজির দোকান নিয়ে ব্যবসা করছি। এটা আমার গর্ব যে আত্মনির্ভরশীল হয়ে কিছু করছি। তবে খুলনা জেলা প্রশাসনের নিকট একটি কথাই বলার আছে করোনা দুর্যোগময় মুহুর্তে পাশে আর্থিক সহয়তার হাত বাড়ানো আহবান জানাচ্ছি।
(ঊষার আলো-এমএনএস)