জন্মগত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সরেনের জীবন চলে সুরের জাদুতে

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : দৌলতপুর রেললাইনের সবজি বাজার সম্মুখে এক হাতে দোহা আর অপর হাতে প্রেমজুড়ী বাঁজিয়ে প্রখর রোদে বসে সুরেলা কন্ঠে গান গাইছে সরেন মন্ডল (৫২)। জন্মগত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। পিতা স্বর্গীয় নির্মল মন্ডল ও মাতা পঞ্চীদাসী। বাড়ি ডুমুরিয়া থানাধীন রঘুনাথপুর রাজবংশী গ্রামে। পিতা মাতার সাত সন্তানের দ্বিতীয় সন্তান আদরের সরেন। জন্মগত দৃষ্টি না থাকলেও ঈশ্বর তাকে প্রদান করেছে এক সুরেলা কন্ঠ আর সেই কন্ঠের উপর ভর করেই চলে সরেনের জীবন জীবিকা।

সরেন এখন থেকে ত্রিশ বছর আগে কেশবপুর উপকাটাখালী গ্রামের মেয়ে ময়না মন্ডলকে বিবাহ করে ঘরে নিয়ে আসে। সেই ঘরে জন্ম নেয় দুই সন্তান। মেয়ে সুচরিতা আর ছেলে সম্রাট। ছেলে-মেয়ে বিবাহ দিয়েছে সরেন। আজ ছেলে মেয়েদের ও ছেলে মেয়ে হয়েছে। ছেলে সম্রাট কাজ করে রাজমিস্ত্রীর। সংসারের ভালো মন্দ দেখভাল করে সে।

সরেন জানান, আমি জন্মগত অন্ধ। বিবাহের পর হতে হাতের দোহা আর প্রেমজুড়ী রাস্তায়-রাস্তায় গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছি। প্রতি সোমবার আর বুধবার আমি সকালে বাড়ি হতে বের হই। খুলনার দৌলতপুর, খালিশপুর, বয়রা, নিউমার্কেট, গল্লামারী, ডাকবাংলা, সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে-ঘুরে গান গায়। গান গেয়ে কোনো-কোনো দিন ৪/৫ টাকা হয়। হয় চাল, ডাল, বা আলুর যোগান। আর যেদিন কোনো ইনকাম হয়না সেদিন লোকের কাছ হতে কুড়ি টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়। করোনা মধ্যে বাড়ি হতে বের হইনি। চলতে খুবই কষ্ট হয়েছে। দুই জায়গা হতে ত্রাণ পেয়েছি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তাও পেয়েছি।

এছাড়া সরকারিভাবে আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর ভাতা পায় যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তুবও পায় তো। সরেনের মতো হাজারও প্রতিভা আছে যা রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। তবুও থামছেনা কারণ জীবন জীবিকার তাগিদে। জীবনের হাজারো বাঁধা পেড়িয়ে তাদের অদম্য গতিতে ছুটে চলা একমাত্র দু’মুঠো ভাতের জন্য।

(ঊষার আলো-এমএনএস)