জীবন-জীবিকার তাগিদে ঝুঁকছে কর্মে, বাড়ছে শিশু শ্রম

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : তৃণমূল পর্যায়ের অস্বচ্ছল পরিবারগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দু’এক ক্লাস গড়াতেই তাদেরে পরিবার লেখাপড়া শিখে কি হবে জর্জ ব্যারিস্টার তো আর হোবি না- পরিবার প্রধান পিতার এমনই কথার পরিপ্রেক্ষিতে লেখাপড়া শিখে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মনোবল হারিয়ে অবশেষে কোনো না কোনো কর্মে যোগ দিচ্ছি। যে কারণে ক্রমশই বেড়ে চলেছে শ্রম। যে বয়সে এ সকল শিশুদের স্কুলের বইয়ের ব্যাগ কাধে বা হাতে নিয়ে আর দশটা সহপাটির মতো স্কুলগামী হওয়ার কথা তার পরিবর্তে এ সকল শিশুরা কেউ রিক্সা নিয়ে, কেউ চায়ের কেটলী হাতে দৈনিক শ্রমিকের কাজ, কেউ দোকানের কর্মচারী, কেউ হোটেলের মেসিয়ার আর কেউ বা লেখাপড়া বা নাই হলো তাই কিছু করার উদ্দেশ্য মোটরের গ্যারেজ বা কাঠের গোলায় বা বস্তা সেলাইয়ের কাজে নিজেকে যুক্ত করেছে।

সরেজমিনে, নগরীর দৌলতপুর ঘুরে এমনই একাধিক চিত্র উঠে এসেছে। পরিবারের বাবা, মা এমনকি অন্যান্য সদস্যদের ভরণপোষনের জন্য তথা দু’টো মোটা ভাতের জোগানের নেমে কর্মে। করোনার প্রভাবে দরিদ্রতার পিষ্টে পড়ে কর্মহীন হওয়ার দরুন পরিবারগুলো কোমলমতি সন্তানটিও নামিয়ে দিয়েছে কর্মে। তবে শ্রম অধিদপ্তরের তথ্যনুসারে ১৪ বছরের নীচে কোন শিশু কাজে নিয়োগ করলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা বিধান আছে জানালেও তা যেন অনেকটাই খাতা কলমে সীমাবদ্ধ। অপরদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সূত্রে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরাদের সিএসএসপি প্রকল্পের আওয়াই এনে এ সকল শিশুদের ঘরে রেখে আর্থিক সহয়তাসহ ভরণপোষনের গৃহিত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেলেও শহরে প্রচুর ঝুকিপূর্ণ শিশু শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

করোনার ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার দরুন নিরক্ষর পরিবারগুলো মনে করে নিয়েছে, কবে স্কুল খুলবে তার কোন গ্যারান্টি নাই, তাই সন্তানকে ঘরে বসিয়ে না রেখে সরাসরি কাজে নামিয়ে দিয়েছে। আইন শিশু শ্রম আইন বিরোধী।

দৌলতপুর মুহসীন মোড়স্থ একটি মোটর সাইকেল গ্যারেজে কাজ করে মোঃ সালমান। বাবা সামান্য রাজমিস্ত্রি। বাবার বর্তমানে কাজ কম। তাই পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে বই, কলম-খাতা ছেড়ে হাতে যোগ দিতে হয়েছে গ্যারেজে কাজে।

সিফাতও কাজ করে মোটর গ্যারেজে। বাবা মিজানুর কাচা সবজির বাজারে বোঝা টানে। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাকে গ্যারেজে ৫০টাকা বেতনে কাজ করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশু সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বস্তা সেলাই করে দৌলতপুর খান রোডের মাথায়। মুজুরী বস্তা প্রতি ২/৩ টাকা। এরকম হাজারও শিশু আজ বইখাতা ছেড়ে বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, ফলে বেড়েছে শিশু শ্রম, বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আইনাল হক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুসহ শিশু শ্রম বন্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্য প্রতিবদ্ধি ভাতাসহ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের (সিএসএসপি) প্রকল্পের আওয়ায় এনে সহয়তা প্রদান করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)