জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়েও মৃত বঙ্গবন্ধু ছিলেন বেশি শক্তিশালী : সিটি মেয়র

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়েও মৃত বঙ্গবন্ধু ছিলেন বেশি শক্তিশালী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্ত্বা, একটি ইতিহাস। তিনি শুধু বাঙালি জাতির নেতাই ছিল না, তিনি ছিলেন নিপীড়িত বিশ্ববাসীর নেতা। বাল্যকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন সচেষ্ট। বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। ১৯৪৭ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় তিনি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পক্ষে আন্দোলন করে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। ৬৬’সালে ৬ দফা আন্দোলনের জনমত গঠনের জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে সফর করেছেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে ও পাকিস্তানী শাসকেরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। দিকভ্রষ্ট জাতিকে পরাধীনতার গ্লানী থেকে রক্ষা করতে এবং পরম আকাঙ্খিত স্বাধীনতা প্রদান করতে বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। পাকিস্তানের সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরে বাঙালি নিধনে মেতে উঠে। তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাতে বাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পাকিস্থানি শাসক গোষ্ঠী ভীত হয়ে তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে রাখেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর আমাদের কাঙ্খিত বিজয় অর্জিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন হলেও বাঙালি জাতি প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ পায় ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসলে। এরপর তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পূনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন। তিনি আরো বলেন, ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। আমাদের স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।
শনিবার (২০ মার্চ) বিকাল ৪টায় আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সদর থানা আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর থানা আওয়ামী লীগ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম। সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর ফকির সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, একেএম শাহজাহান কচি, সফিকুর রহমান পলাশ, এ্যাড. তারেক রহমান তারা, ফয়েজুল ইসলাম টিটো, মো. শিহাব উদ্দিন, নুরানী রহমান বিউটি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)