বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর দুই শিশু হত্যা

তদন্ত কর্মকতার বিরুদ্ধে শিশুর পিতার অভিযোগ দায়ের

সর্বশেষ আপডেটঃ

আরিফুর রহমান, বাগেরহাট : বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলার চৌদ্দহাজারি গ্রামে চাঞ্চল্যকর শিশু রিফাত তালুকদার (৫) হত্যা মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শহীদুর রহমান শহীদের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্য ও তদন্তে পক্ষপাতের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন নিহত শিশুর পরিবার। নিহত রিফাতের চাচা চিতলমারী সরকারি বঙ্গবন্ধু মহিলা ডিগ্রী কলেজের উপাধাক্ষ্য উপজেলার চৌদ্দহাজারি গ্রামের কাওছার তালুকদার বাদী হয়ে বাগেরহাট পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শহীদুর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্টভাবে ঘুষ গ্রহন ও ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এলাকার অন্যদের ধরে এনে অমানুষিক শারিরিক নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহা পুলিশ পরিদর্শক বরাবরে পর্যায়ক্রমে আবেদন করেছেন। যা বর্তমানে খুলনা ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল করিম তদন্ত করছেন।

কলেজ শিক্ষক কাওছার তালুকদারের বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৫ জুন তার শিশু ছেলে খালিদ তালুকদার (৬) কে অপহরন করা হয়। এ ঘটনায় শত্রুপক্ষ লাকফার তালুকদার, ফারুক তালুকদার রিপন তালুকদার ও সবুর তালুকদারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে চিতলমারি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরের দিন সবুর তালুকদারের মাছের ঘের থেকে খালিদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হয়। কয়েকজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছেন।

এদিকে খালিদ হত্যা মামলার আসামিরা এতই দুর্দান্ত যে আদালত থেকে জামিনে এসে একইভাবে আমার ছোটভাই মান্নান তালুকদারের শিশু ছেলে রিফাত তালুকদার (৫) কে হত্যা করে একটি ডোবার মধ্যে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় মান্নান তালুকদার বাদী হয়েছে প্রতিপক্ষ ঠান্ডা তালূকদার, সবুর তালুকদার মিজান তালুকদার ও লাকফার তালুকদারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চিতলমারি থানায় আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

দুটি হত্যা কান্ডের ঘটনায় আসামি পক্ষে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি প্রবেশ করায় নানা জটিলতা তৈরী হলে খালিদ হত্যা মামলাটি সিআইডিতে এবং রিফাত হত্যার তদন্ত পায় সর্বশেষ বাগেরহাট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই পুলিশ পরির্দশক শহীদুর রহমান মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আসামি পক্ষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং আসামীদের নির্দেশনামতে বাদী পক্ষের লোকজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নানা নির্যাতন করে এবং মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। মামলা চলাকালিন সময়ে আসামী শাহাজান তালুকদার ও সৈয়দ তালুকদার মাছের ঘেরসহ জমি বিক্রি করে মামলার তদবীর করতে থাকে।

কলেজ উপাধাক্ষ্য মোঃ কাওছার তালুকদার এ প্রতিবেদক বলেন, পৈত্রিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শক্রতরা আমাকে বেড়ক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার একটি পা ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় আসামিদের চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলা থেকে জামিনে বের হয়ে শত্রুতার কারনে আরো হিংস্র হয়ে প্রতিশোধ নিতে আমারও আমার ছোট ভাইয়ের শিশু ছেলে দু’জনকে পর্যায়ক্রমে হত্যা করে। ২টি শিশু হত্যা মামলা নিয়ে তদন্তে পুলিশের নানা জটিলতার কারনে থানা পুলিশের পরিবর্তে সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহীদুর রহমান তদন্ত করতে গিয়ে সাবোখালি গ্রামের হাফিজুর রহমান নামের একজন আটক তাদের অফিসে নিয়ে শারিরিক নির্যাতন করে হত্যাকান্ডে আমার ভাইপো সাকিব, ইকবাল, নুরুল আমিন ও জোবায়েরের নাম বলতে বাধ্য করায়।

অপরদিকে, হত্যা মামলার অন্যতম আসামী লুৎফর রহমান ঠান্ডাসহ ১০ জন আসামী উচ্চ আদালত থেকে ৪ সপ্তাহের জন্য জামিনে বের হয়ে ৪ সপ্তাহ মেয়াদ শেষ হলেও তার নিম্ন আদালতে পুনঃজামিন না নিয়ে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব ঘটনা উল্লেখ করে আমি নিজে বাদী হয়ে পুলিশ হেডকোয়াটারে লিখিতভাবে অভিযোগ করি। এছাড়াও পিবিআই পুলিশ কর্মকর্তার এহেন কর্মকান্ডসহ দুই শিশু ছেলের হত্যার সঠিক বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আইজিপি ও দুদক বরাবরে আবেদন করি। যা বর্তমানে খুলনা ডিআইজি অফিসের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)