তালায় আগষ্ট মাসে ১৫টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ

সর্বশেষ আপডেটঃ

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা : উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার’র সাঁড়াশি অভিযানে তালায় ১ মাসে ১৫টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ হয়েছে। বাল্য বিবাহ’র শিকার হতে যাওয়া শিশু মেয়েদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। অভিযানে বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার জানান, তালা’র বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই বাল্য বিবাহ’র আয়োজন হয়। বাল্য বিবাহ’র সংবাদ পাওয়া মাত্র সেখানে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এছাড়া ক্ষেত্র বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিভাবকদের অর্থদন্ড প্রদান করেন। বছরের সারা মাস কমবেশি এধরনের বিয়ের আয়োজন চলে। করোনা প্রাদূর্ভাবের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্য বিবাহ’র প্রকোপ আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাজমুন নাহার বলেন, পূর্ববর্তী মাসগুলোর ন্যায় আগষ্ট- ২০২১ মাসেও তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাল্য বিবাহ রোধে অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে এই মাসে তালা উপজেলায় ১৫টি শিশু কন্যার “বাল্য বিবাহ” প্রতিরোধ করা হয়েছে। যারমধ্যে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন সারসা গ্রামে ৩টি; ভৈরবনগর গ্রামে ১টি; এনায়েতপুর গ্রামে ১টি, সরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কাশিপুর গ্রামে ১টি; খোর্দ্দ গ্রামে ১টি; কাশিপুর গ্রামে ১টি, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের হাতবাস গ্রামে ১টি; সুভাষিনী গ্রামে ২টি এবং খলিষখালী ইউনিয়নের রাঘবকাঠি গ্রামে ১টি; বাগমারা গ্রামে ২টি ও শুক্তিয়া গ্রামের ১টি শিশু মেয়ের বাল্য বিবাহ’র অপচেষ্টা রয়েছে।

তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিফ-উল-হাসান, সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. তারেক সুলতান, তালা ও পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, জেলা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রধান মো. সাকিবুর রহমান এবং ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সহযোগীতায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বাল্যবিবাহ গুলো প্রতিরোধ করার সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’র ভ্রাম্যমান আদালতে অভিভাবকদের অর্থদন্ড, বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উপর লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান বলেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে আমরা বদ্ধ পরিকর। এলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং সাংবাদিকদের নিয়ে একযোগে কাজ করা হচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় আগষ্ট মাসে ১৫টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান জানান।

(ঊষার আলো-এমএনএস)