তেরখাদার বারাসাত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ আগস্ট) খুলনা প্রেসক্লাবে বেলা সাড়ে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২নং বারাসাত ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬নং ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত) রিনা বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একই ইউনিয়নের ৪নং সদস্য চাঁন মিয়া মুন্সী, ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ ও ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আরিফ মোল্লা।

লিখিত বক্তব্যে রিনা বেগম চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাসী লালন, সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন এবং ইউপি মেম্বারদের জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি চেয়ারম্যানের আঙুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার কথাও বলেন। চেয়ারম্যান গত ৭ আগস্ট যে সংবাদ সম্মেলে করেছেন তা ছিলো মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত। নিজের দোষত্রুটি আড়াল করতে নিজেকে কলংকমুক্ত করতে চাইছেন। যা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো।

তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান আলমগীর হলো হাইব্রীড আওয়ামী লীগ। সে আগে জাতীয় পার্টি ও যুব সংহতির নেতা ছিল। বর্তমানে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে তার ব্যাপক সখ্যতা রয়েছে। মাত্র ৫-৬ বছরে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে জিরো থেকে হিরো হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের নাম ভাঙ্গিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে টি আর কাবিখা, কাবিটা, খাল খনন, ৪০ দিনের কর্মসূচি এবং এলজিএসপি’র প্রকল্প লুট করে সস্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এনএসআই এর হাতে তার ভাই নুর ইসলাম ১০ টাকা কেজি চালের দুর্নীতিতে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ক্ষমতার দাপট ও কালো টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২৫০০ টাকার ক্ষেত্রেও অনিয়ম বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হয়। চেয়ারম্যান এলজিএসপি’র টাকা মেম্বারদের না জানিয়ে আত্মসাৎ করে। এ বিষয়ে যেই অভিযোগ করেছে তাদেরকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করে বলেন, রাসেল আহমেদ ওরফে এম ডি রাসেল এর মাধ্যমে চেয়ারম্যান এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ করতে দেয় না। এই রাসেল সৌদিতে নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে এক বছর জেলও খেটেছে। সে একসময় এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতো। এখন রাসেলের নেতৃত্বে তার ভাই ফয়সাল নিয়মিত মাদক সেবন ও ব্যবসা করে। রিনা বেগমের স্বামী মাশিকুল চৌধুরী এবং মেম্বারদের নিয়ে চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলনে যে কল্পকাহিনী বলেছেন তা আদৌ সঠিক নয়। তার স্বামীর নামে ষড়যন্ত্র করে মামলাও দেয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান তৌহিদ ও আরিফ মোল্যার নামে যা বলেছে তাও বানোয়াট। মেম্বাররা তার এই সীমাহীন দুর্নীতিতে প্রতিবাদ করাতেই তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। কয়েকজন ইউপির সদস্য সদস্য সংরক্ষিত সদস্য রিনা বেগম চেয়ারম্যানের উক্ত দুর্নীতির সঠিক তদন্ত শেষে প্রশাসনের কাছে সু-বিচারের দাবি জানিয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)