দীর্ঘ দুই বছরেও খোঁজ মেলেনি অন্তরার, মা-বাবার আহাজারি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনা তেরখাদা উপজেলার ৬নং মধুপুর ইউনিয়নের মেয়ে অন্তরা নিখোঁজের দুই বছর পার হলেও এখনও কোন খোঁজ-খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে উদ্বিগ্নে দিন কাটাচ্ছে নিখোঁজের মা-বাবা। তাদের একটাই দাবি, অন্তরাকে ফিরে পাওয়ার।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মধুপুর ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামের অতি দরিদ্র দিনমজুর জাহাঙ্গীর শেখ। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ১ ছেলের পরিবার নিয়ে দিন এনে দিন খেয়ে ভালোভাবেই কাটছিল তার দিন। কিন্তু ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নেমে আসে তার জীবনে এক দুর্বিসহ মুহুর্ত। ঐ দিনই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তার মেয়ে অন্তরা। সেই দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত অন্তরার কোন খোঁজ মেলেনি। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি মেম্বার দিদার মল্লিককে জানালেও সে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

অন্তরার মা জানান, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ থেকে তার মেয়ে অন্তরা নিখোঁজ। অনেক খোঁজাখুজির পরও আমার মেয়েকে পাইনি। একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বোম্বাই থেকে তার মোবাইলে একটা কল আসে। ফোন রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে বলে, মা আমি অন্তরা বলছি। আমি বর্তমানে ভারতের বোম্বাই শহরে আছি। আমাকে এখানে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আমাকে বিক্রি করেছে আমাদের গ্রামের অর্থাৎ লস্করপুর গ্রামের সাহেব আলী, মিঠু মোল্যা ও ফিদুল মোল্যা। আর তাদের সহযোগিরা হলো, পাটগাতী গ্রামের ফিরু বেগম, শহিদুল চৌধুরী ও মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের ময়না বেগম। এরা শুধু আমকেই নয়, আমাদের গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামের অনেক মেয়েদেরও বিক্রি করেছে। যার মধ্যে আমরা একসাথে ৫ জন মেয়েরা থাকি।

অন্তরা আকুতি করে তার মাকে ফোনে আরও বলে, মা আমি বোধয় আর দেশে ফিরতে পারব না। আমার ছেলে জিহাদ ও জাহিদুলকে দেখে রেখ তোমরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লস্কুরপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের গ্রামে ভারতে পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তারা নিয়মিত এলাকা ও আশেপাশের মেয়েদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে, কখনও ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ভারতে পাচার করে। এলাকার সাহেব আলী, তার ভাই মিঠু মোল্যা ও ফিদুল মোল্যা এই পাচার চক্রের সদস্য। মিঠু মোল্যার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী পাচারসহ এলাকায় অনেক অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়েছে। সাহেব আলী টিএনটি-তে সামান্য বেতনে চাকরি করে। তাহলে সে কিভাবে কম টাকা বেতনে চাকরি করে এত জমি-জমা কিনতে পারে। এদের বিরুদ্ধে মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা ও বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের ১নং ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা এবং তেরখাদা থানায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ আছে।

তেরখাদার মানব পাচার চক্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এলাকাবাসী ও অন্তরার মা-বাবা। সেই সাথে তারা তাদের মেয়ে অন্তরাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)