দু’কারণে পারদের রূপে খুলনার চালের বাজার

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : আমন ওঠার পর জানুয়ারিতে এবং বোরো ওঠার পর মে মাসে চালের বাজার নিম্নমুখী হলেও অন্যান্য সময় উর্ধ্বমুখী হয়। এ বছর দু’দফা আমদানি হলেও খুলনার চালের বাজার প্রায় সময় স্থিতিশীল থাকে। গত নয় মাস স্থানীয় ২৬ বাজারে চালের বাজার পারদের মতো ওঠানামা করে। আর ভোগ পোহাতে হয় ভোক্তাদের। পারিবারিক ব্যয় কখনও বাড়ে, আবার কখনও কমে। অস্থিতিশীল অবস্থায় খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখোমুখি হয়।

এবারে খাদ্য মন্ত্রণালয় খুলনার তিনটি প্রতিষ্ঠান লবণচরাস্থ কাজী সোবাহান ট্রেডিং, টুটপাড়া সার্কুলার রোডস্থ কাজী এন্টারপ্রাইজ ও লোয়ার যশোর রোডস্থ ইয়ান ইন্টারন্যাশনাল ৪২ হাজার মেট্টিক টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব খাজা আব্দুল হান্নান আমদানিকারকদের শর্তাবলীতে উল্লেখ করেছেন ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানি করতে হবে। আমদানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

খুলনার আমদানিকারক কাজী সোবাহান ট্রেডিং কর্পোরেশনের মালিক কাজী নিজাম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের উৎপাদিত চাল লবণচরা ও ডুমুরিয়ায় প্রতি মণ এক হাজার টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ধানের দাম কিছুটা বাড়ায় চালের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত ১০ হাজার মেট্টিক টন চাল আমদানি করেছে। আমদানিকৃত চালের ধরণ স্বর্ণা ও মিনিকেট। তিনি বলেন, প্রতিকেজি মিনিকেট বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে ৫৩ টাকা এবং স্বর্ণা ৪৩ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

আমদানিকারকরা প্রতিকেজি মিনিকেট ৫৪ টাকা ও স্বর্ণা ৪৪ টাকা দরে বিক্রি করে। তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত চাল ঢাকার ব্যবসায়ীরা ৫৯ টাকা দরে বিক্রি করছে। কেজি প্রতি পাঁচ টাকা বাড়ার কারণ আমদানিকারকদের কাছে অজ্ঞাত। এছাড়া যানজট এবং দুর্গপূজার ছুটির কারণে ভারত থেকে চাল আসতে অনেক বিলম্ব হচ্ছে। বেনাপোল স্থল বন্দর ও ভোমরা শুল্ক স্টেশনে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন জট পড়েছে।

মহানগরীর লবণচরা, ডুমুরিয়া, চুকনগর ও রূপসা এলাকার রাইচ মিলগুলোতে ধান-চালের অস্বাভাবিক কোনো মজুদ নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে চালের মূল্য বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের দুর্ভোগে ফেলে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খুলনায় ধান-চালের মূল্য উর্ধ্বগতি জানতে মন্ত্রণালয় আগস্টে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন শেষে ১১ আগস্টের সভায় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ কমিটির সদস্যরা তথ্য উপস্থাপন করেন, ডুমুরিয়া ও লবণচরার মিলগুলোতে অস্বাভাবিক কোনো মজুদ নেই। নগরীর ৩১নং ওয়ার্ডের লবণচরা এলাকার কাজী সোবহান অটো মিলের ২০ হাজার কেজি ধান ও ১৮ মেট্টিক টন চাল মজুদ দেখতে পেয়েছেন তদন্ত কমিটি। বয়রা অটো রাইচ মিলে কোনো চাল মজুদ নেই বলে সভাকে অবহিত করা হয়।

বয়রা অটো রাইচ মিলের মালিক কমিটিকে জানান, দক্ষিণাঞ্চলে মোটা ধানের আবাদ কমে গেছে। আমন আবাদের জমিতে চিংড়ি, আবাসিক ভবন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ফলে এখানে কাংখিত ধান উৎপাদন হচ্ছে না। মহামারি করোনার কারণে পরিবহন সংকট দেখা দেয়ায় চালের মূল্য বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয় মিল মালিকরা কমিটিকে অবহিত করেন, আমন মৌসুমের প্রথম দিকে প্রতি মণ ধান ৮শ’ থেকে ৮শ’ ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গেল মাসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এই সূত্র বলেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় খুলনায় তিন জনকে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্থানীয় লোয়ার যশোর রোডের ইয়ান ইন্টারন্যাশনাল, লবণচরা খাল পাড়ের কাজী সোবাহান ট্রেডিং কর্পোরেশন ও সাউথ সার্কুলার রোডের মেসার্স কাজী এন্টারপ্রাইজ। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে সিদ্ধ নন বাসমতি চাল ও আতপ চাল আনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান ৪২ হাজার মেট্টিক টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে।

নগরীর বাজারে ভারত থেকে আসা বঙ্গবন্ধু, বসুমতি ইত্যাদি নামের চাল পাইকারী ও খুচরা দোকানে মজুদ হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এ কমিটি আমদানির মাধ্যমে বাজারে পর্যাপ্ত চাল আনার সুপারিশ করেছে।

সোমবার (১১ অক্টােবর) পর্যন্ত খুলনার ১০টি সরকারি খাদ্য গুদামে ৬০ হাজার ৬শ’ ২৪ মেট্টিক টন আতপ, সিদ্ধ চাল মজুদ রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে আনা চালের মধ্যে স্থানীয় বাজারগুলোতে সোমবার পর্যন্ত চালের মজুদ ৩১ হাজার ৪শ’ ১৯ মেট্টিক টন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)