দৌলতপুরে কলেজ ছাত্র হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে; স্বজনরা আতংকে

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : গত পাঁচ দিনেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি দৌলতপুরের বিএল কলেজ ছাত্র সাহেদ শিকদার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিদের। আসামীরা এলাকায় ঘুরলেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে ভিকটিমের স্বজনদের জানিয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দৌলতপুর আঞ্জুমান রোডের আমতলা মোড়ের বাসিন্দা ওজোপাডিকোতে কর্মরত শুকুর শিকদারের ছেলে সাহেদ শিকদার গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার পায়ের ওপর মটর সাইকেল উঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে দুর্বৃত্তদের অভিভাবকরা মিমাংসার আশ্বাস দিলে ভিকটিম স্বজনরা ফিরে আসে। এ ঘটনার জের ধরে গত ২৭ আগস্ট রাত পৌনে ১০টার দিকে সাহেদ ওষুধ কিনে মটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে আঞ্জুমান রোডস্থ জামান সাহেবের বাড়ির সামনে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার পথ রোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পথচারিরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা শুকুর শিকদার বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলো-দ্বীপ(৩০), রাব্বি(২৭), আলম শেখ(৪০), আজম(৩৯), তহিদুল(৪২), জাহিদুল(৪০), হাসান (২৮)সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। আসামীদের মধ্যে আলম শেখের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যার চেষ্টাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। আজম শেখের বিরুদ্ধে মাদকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। আসামীরা অধিকাংশই একাধিক মামলার আসামী। এরা এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে বাদী শুকুর আলী জানান। তিনি বলেন, এরা এতই ভয়ংকর ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাবে স্ব-পরিবারে এখন তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। পুলিশ আসামীদের ধরার ব্যাপারে তৎপর থাকলেও আসামীরা এলাকায়ই রয়েছে। পুলিশ আসলেই আসামীরা সরে পড়ে। এসব সন্ত্রাসীরা তার ছেলেকে এতই কুপিয়েছে যে অনেক রক্তপাত হয়েছে। রক্ত দিতে দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের জন্য জোর অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তাদের কাউকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আসামীদের মধ্যে আলম ও আজম মাদকসহ একাধিক মামলার আসামী।

(ঊষার আলো-এমএনএস)