নগরীতে কাঁচাঝালের দাম লাগামহীন, ক্রেতারা অসহায়

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ভারী বর্ষা, বন্যায় ক্ষেত নষ্ট, ভারত হতে ঝালের আমদানী কমসহ আমদানীকৃত ঝাল বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারনে নগরীর দৌলতপুর পাইকারী-খুঁচরা উভয় বাজারে কাঁচা ঝালের দাম লাগামহীন, তবে পাইকারী বাজার হতে দাম কিছুটা কমে খুঁচরা বিক্রেতারা কিনলেও খুঁচরা বাজারে এসে ঝাল হয়ে যাচ্ছে সোনায় সোহাগা, যা পাইকারী বাজার তুলনায় কেজি প্রতি বিশ টাকাও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারে কাঁচা ঝালের দাম ডবল সেঞ্চুরী ছুঁই ছুঁই।

একাধীক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত হতে ঝাল আমদানী কম থাকা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ভারী বর্ষনের কারনে ঝালের বরজের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার দরুন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভারত হতে ঝাল ঠিক মতো আমদানী হলে বাজারে ঝালের ঘাটতি থাকবেনা, দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে। কিন্তু বাজারে আসা অধিকাংশ ক্রেতারা বলছেন বাজার মনিটরিং না করার দরুন অনেক ব্যবসায়ীরা ঝাল সাময়িক মুজুদ করে রেখে বাজার ঘাটতির সৃষ্টি করেছে, যার দরুন রাতারাতি ঝালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের চলমান করোনা মহামারীর মধ্যে সরকারী চাকুরীজীবি ছাড়া অধিংকাশ মানুষই রয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকটে। চরম এ অর্থনৈতিক সংকটে থাকলেও খেটে খাওয়া সাধারন মানুষগুলো তাদের পরিবারের সদস্যদের আহার যোগাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিনতে হিমসিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতে বর্ষা, বন্যা, খরা আর ভারত হতে আমদানী বন্ধের ইত্যাদি নেছক অজুহাত মন্তব্য ক্রেতাদের।

সরেজমিনে, সোমবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা। সবজি বাজারে প্রচুর ক্রেতা সমাগম। বিক্রেতারা প্রচুর ব্যস্ত সবজি বিক্রয়ের জন্য। ঝাল এছাড়া অন্যান্য সবজির দামও চড়া। পটল ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, টমেটো ৭০টাকা, লাউ প্রতি পিচ ৪০/৩৫ টাকা, কচুমুখি ৩০ টাকা, লালশাক ৩০ টাকা কেজি, কুমড়া ৪০ টাকা কেজিসহ ঢেড়শ ৪০, কুশি ৩৫, ধুন্দল ৩৫, বটবটি ৫০, আমড়া, ৩৫, কাকরোল ৪০টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে বাজারে আগুন লেগেছে যেন কাঁচা ঝালের গায়ে। প্রতি কেজি এলসি কাঁচা ঝাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। আর বরজের ঝাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা দরে।

সবজি ক্রয়ের জন্য বাজারে এসেছেন নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, বাজারে ঝালের দাম লাগামহীন আর অন্যান্য সবজির দামও বেশ চড়া। ঝিঙে, পটল, বেগুন, লাউ, লালশাক, সীম, চাল কুমড়াসহ প্রভৃতি সবজির দাম ৪০/৫০ টাকার নিচে নয়। এ বিষয়ে দৌলতপুর বাজার সবজি বিক্রেতা জিয়া বলেন, যশোর অঞ্চলে ভারী বর্ষনে কারনে আবাদ নষ্ট, এলসি বন্ধ থাকার বাজারে ঝাল সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। যে কারণে ঝালের বাজার অনেকটাই উর্ধমূখি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর বাজার খুচরা কাচাঁমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ পলাশ হোসেন বলেন, বর্তমানে মহেশপুর, মধুখালি, পাবনা, যশোরের চৌগাছাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষার দরুন উৎপাদিত ফসল বিনষ্ট হওয়ার দরুন বাজার কিছুটা উর্ধমূখি, বিশেষ করে ঝালের দাম নিয়ে শংকিত ব্যবসায়ীরা। তবে কেবলমাত্র বর্ষা বা বন্যার দোহায় দিয়ে যদি কোন ব্যবসায়ী ক্রেতাদের নিকট হতে অতিরিক্ত দাম আদায় করে তা নীতি-নৈতিকতার বাইরে। সব মিলিয়ে দৌলতপুর বাজারে আর কাঁচাঝালসহ কাঁচাসবজি লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা যেন বিক্রিতার নিকট অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)