নগর আজ অবধি মুক্ত হয়নি পলিথিনে

নগরী জুড়ে বেড়েছে পলিথিনের ব্যবহার, হুমকিতে পরিবেশ

সর্বশেষ আপডেটঃ

মো: আশিকুর রহমান : আজ ৫ জুন (শনিবার) পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “প্রকৃতিকে সরক্ষণ করি, প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করি”- সুধী সমাজ আর গুনীজনদের জিজ্ঞাসা এ প্রতিপাদ্যের আলোকে আমরা আমাদের সচেনতার মাধ্যমে পরিবেশ, প্রকৃতিকে কতটুকু দূষণ মুক্ত করতে পেরেছি? আর আগামী প্রজন্মের জন্য কতটুকু দূষণমুক্ত নির্মল পরিবেশ সৃষ্টি করেছি?
বাড়ি থেকে বের হলেই প্রতিনিয়তই চোখের নজরে মিলছে পাড়া-মহল্লা, গলিগলি, ফাঁকা জায়গা, রাস্তার উপর বা আশেপাশে পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনার বিশাল স্তুপ। যে স্তুপের প্রায় ৭০% আর্বজনাই হলো পলিথিন আর বাকি অংশ কাগজ, পলিথিন, বাচ্চাদের ব্যবহৃত প্যাম্পপাস, গৃহস্থালির উৎশিস্ট ময়লা বা প্লাটিকের বোতল। রাস্তার উপর পড়ে থাকা এ বর্জ্য গুলো কুকুর টেনে এনে সমগ্র প্রকৃতিকে নোংড়া করে তুলছে। যে কারণে পলিথিনের অতিমাত্রায় ব্যবহার আর আর্বজনার স্তুপ ধীরে ধীরে নগরীর সমগ্র নগরী জুড়ে নোংরার রাজ্য পরিণত করছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণার তথ্য মতে, পলিথিন হলো একটি নন-বায়োডিগগ্রেটেবল বস্তু যা অপচনশীল। এই পলিথিন পরিবেশ আজ চরম হুমকির মুখে দাড়িয়েছে। পলিথিন অপচনশীল হওয়ার দরুন বছরের পর বছর মাটির নীচে থাকার পরও নষ্ট হয়না। যে কারণে মাটির নীচের জীব-বিচিত্র প্রাননাশের হুমকির মুখেসহ মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার, উৎপাদন আইনে নিষিদ্ধ। সরেজমিনে, পলিথিনের মজুদ, সরবরাহ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও নগরীর বিভিন্ন বাজারে মাছ ,মাংস, মুদি দোকান, সবজির বাজার, অলি-গলিসহ বিভিন্ন স্থানে দেদার দেখা মিলছে। কেন বন্ধ হচ্ছে না পলিথিন, কেন কমছে না এর ব্যবহার? পলিথিনের বিকল্প উপায়ই বা কী? এগুলো নিয়ে সর্বস্তরে সুধিমহলের সমলোচনার ঝড়। খুলনার আশপাশের অঞ্চল আগত ব্যবসায়ীরা বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে নির্বিঘ্নে কিনছে পলিথিন।
ময়লাপোতা বাজারে আসা ক্রেতা তানিশা তিন্নি বলেন, ‘পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ তা জানি। কিন্তু পলিথিন ব্যবহারে ঝামেলা কম। মানুষ এ কারণে এটি ব্যবহার করে। পরিবেশের জন্য পলিথিন ক্ষতিকর এটা জানা সত্ত্বেও সবাই তারপরও জেনেশুনে ব্যবহার করে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন বিভাগ দৌলতপুর খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশিদ জানান, পলিথিন হলো একটি নন-বায়োডিগগ্রেটেবল বস্তু যা সহজে পচনশীল নয়। পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশে অবিকৃত থাকার দরুন মাটিতে যে পচনশীল ব্যাকটেরিয়া থাকে তা বাধাগ্রস্থ হয় এবং মাটিতে পচনশীল কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাষনে পলিথিন চরম ক্ষতি সাধিত করে। এ থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। যা ভূ-গর্ভস্থ পানির সাথে মিশে পানিকে দূষিত করে পাশাপাশি ভূ-গর্ভস্থ জীব ও বিচিত্রকে হুমকির মুখে ফেলে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
পলিথিন বন্ধ ও নিষিদ্ধের ব্যাপারে খুলনা বৃহত্তর উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহ-সদস্য সচিব শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পথিলিন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। গনহারে পলিথিন ব্যবহার চলছে। যা আমাদের পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতি। পলিথিন ব্যবহারে পরিবেশ আজ হুমকির সম্মুখিন। সকলকে পলিথিনের বিকল্প ব্যবহার করা মানষিকতা তৈরী করা উচিত।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দীর্ঘদিন পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান বা কার্যক্রম পরিচালনার নিষ্ক্রিয়তায় বর্তমানে পলিথিন নিষিদ্ধের আইনটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। নগরীতে বর্তমানে পলিথিনের ব্যবহার অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এ বিষয়ে আমি অবগত। যেহেতু করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন আমাদের ভ্রাম্যমান অভিযান বন্ধ আছে। তবে দ্রুতই পরিবেশ অধিদপ্তরপক্ষ পলিথিন বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। সমগ্র নগরী জুড়ে অবাদে বেড়েছে পলিথিনের ব্যবহার, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীব ও বিচিত্র হচ্ছে হুমকির সম্মুখিন। সময়ের দাবি, সকলের দাবি বন্ধ হোক পলিথিন, প্রাণ ফিরে পায় যেন প্রকৃতি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)