নিরবেই শেষ হলো খুলনার বই মেলা

সর্বশেষ আপডেটঃ
39
0

হতাশা আর লোকসানের বোঝা নিয়ে মাঠ

ছাড়ে স্টল মালিকরা

ঊষার আলো প্রতিবেদক : তখন ঘড়ির কাটায় বিকেল সাড়ে ৫টা বাজে। শেষ দিন বিগত দিনের গতানুগতিক চরিত্রের বিপরিত চরিত্র পুরো মেলার মাঠ জুড়ে। এ দিন স্টল মালিকরা ক্রেতাদের চাপে হাফ ছেড়ে কথা বলার সুযোগ পায় না। কিন্তু গতকাল শেষ দিন ছিল বিপরীত দৃশ্য। ক্রেতা শূন্য পুরো মেলা মাঠ খা খা করছে। স্টল মালিকার বই গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কারণ কর্তব্যরত পুলিশ মেলার সময় শেষ হয়েছে তার সিগনাল দিয়ে চলেছে। গতকাল এমনই দৃশ্য ছিল বয়রা বই মেলা মাঠ প্রাঙ্গণ।
কমার্স বুক ডিপোর প্রতিনিধি শাহিন বাশার বলেন, হতাশা আর লোকসানের বোঝা নিয়ে এ মেলার মাঠ ছাড়ছি। প্রতিদিন যা বিক্রি হয়েছে তা খরচের টাকা উঠেনি। লোকসানের কারণে অনেকে স্টল গুটিয়ে আগেভাগেই মেলা ছেড়েছেন। তিনি বলেন, এ সংকটে মেলা না হলেই ভাল হতো। মেলা করতে এসে অর্ধলাখ টাকা তার লোকসান হয়েছে। শুধু তার একার নয়, এ অবস্থা সকলেরই। এ জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, তবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আফিয়া বুক হাউজ স্টলের প্রতিনিধি কে এম তুহিন বাবু। তিনি বলেন, প্রতি বছর যেখানে শেষ দিন ক্রেতা সামাল দিয়ে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো। সেখানে তার উল্টো। সারা বিকেল অলস সময় পার করে স্টলের বই গোছাতে শুরু করেছি। তবে পুলিশ এসে বারবার সময় শেষ হয়েছে বলে সিগনাল দিচ্ছে।
তিনি জানান, ঝড়-বৃষ্টির তির সঙ্গে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আরও যুক্ত হয়েছে লকডাউন। এতে পাঠক-দর্শনার্থীর অভাবে বইমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে সৃষ্টি হয় স্তব্ধতার। বই বিক্রি করতে না পেরে স্টল মালিকরা ক্ষতির মুখে হতাশা হয়ে মেলা মাঠ ছাড়েন।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বয়রা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারের উপ-পরিচালক ড. মোঃ আহছান উল্লাহ বলেন, কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে গতকাল বই মেলা শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, বয়রা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে গত ১৯ মার্চ মেলা শুরু হয়। আর শেষ হলো ১৩ এপ্রিল।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ