নারায়নগঞ্জে জুস কারখানায় আগুন

নিহতের পরিবার পাবে ২ লাখ টাকা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : শ্রম ও কর্মসস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডাইফি’র পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের প্রত‌্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে দেয়া হবে। আগুনের ঘটনায় যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে মালিকপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়া হবে।
শুক্রবার (৯ জুলাই) আগুনে পুড়ে যাওয়া হাসেম ফুড বেভারেজের কারখানাটি পরিদর্শনে এসে তিনি একথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান। এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদেরকে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ ঘটনায় মালিকপক্ষ কিংবা কলকারখানা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের যদি কোনও গাফিলতি থাকে সে বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ আছে কি-না তা দেখার দায়িত্ব কলকারখানা অধিদফতরের। এর মধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন প্রায় ৪০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কিকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে।
প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় কয়েকটি ফ্লোরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের ২০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুরে কারখানার ভেতর থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনজন নিহত হয়। সবমিলিয়ে, এ পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। কারখানায় আগুনের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)