পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কায় কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : কয়েক দিন ধরে বাংলাবাজর-শিমুলিয়া নৌ-রুটি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ফেরি চলাচলের দুর্ভোগ কমেনি। তীব্র স্রোতের কারণে এ রুটের ১৮টি ফেরির মধ্যে চলাচল করতে দেখা গেছে মাত্র ৪টি। এতে যানবাহন নদীর উভয় পাড়েই পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে। এদিকে গত দুইদিন যাবত কর্তৃপক্ষ রাতের বেলায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখছে।

বিআইডব্লিটিসি সূত্রে জানা গেছে, এই নৌরুটের ১৮টি ফেরি সচল রয়েছে কিন্ত চলাচল করছে মাত্র ৪টি। মূলত কারণ হিসেবে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় ১৪টি ফেরি ঘাটে বেঁধে রাখা হয়। গত দুই মাসে বেশ কয়েক বার পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগেছে।

রবিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘাট পরিদর্শন করেন। এসময়ে বিআইডব্লিউটিএ মাওয়া রেস্টহাউজে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করা হয়েছিল।

এ সময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক এস এম আশিকুজ্জামান, বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক (নৌ-সওপ) মো, শাহজাহান, বিআইডব্লিউটিএ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ছাইদুর রহমান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির ও প্রকৌশলী দেওয়ান মো.আব্দুল কাদির প্রমুখ।

বিআইডব্লিউটিএ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ছাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সভায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জনের মতামত গ্রহণ করা হয়। পদ্মা নদীতে চলমান বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ বৃদ্ধির কারণে মাওয়া অঞ্চলে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়াগামী ফেরীসমূহকে পদ্মা সেতু থেকে মাত্র ১.৩ কি.মি দূরত্বে হাজরা চ্যানেল দিয়ে বের হতে হয়। হাজরা চ্যানেল দিয়ে আনুমানিক ৩৪০ ডিগ্রী কোর্সে হেড রেখে বের হয়ে পদ্মা সেতুর পিলারসমূহকে ৯০ ডিগ্রী কোর্সে অতিক্রম করতে হয়। বের হয়েই তাকে তীব্র স্রোতের সম্মূখীন হতে হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে ৩৪০ ডিগ্রী থেকে ৯০ কোর্সে যাওয়ার জন্য তাকে ১১০ ডিগ্রী হেড ঘুরানোর প্রয়োজন হয়। সেতু থেকে ১.৩ কি.মি দূরত্বে থেকে বিষয়টি অনেকটা দুরুহ কাজ। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় সময়ই ফেরীসমূহ পিলারে ধাক্কা খাচ্ছে। সমস্যা থেকে পরিত্রানের একটি লাইটেড বয়া স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফেরী সমূহ হাজরা চ্যানেল থেকে বের হয়ে স্থাপিত বয়াকে টার্গেট করে বয়ার কাছাকাছি পৌছে সেতু অতিক্রম করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও রাতের বেলায় আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার গামী ফেরীসমূহ স্রোতের প্রতিকূলে যাবে বিধায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে তাই তারা ৬-৭ নম্বর স্পান ব্যবহার করবেন তবে পরিস্থতি অনুযায়ী দুইপাশের দুইটি স্পানও ব্যবহার করা যাবে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রবিবার দুপুরে ১২-১৩ স্পান হতে ৩ কি.মি. পশ্চিমে একটি লাল লাইটেড বয়া স্থাপন করা হয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)