পাইকগাছায় বিনাপারিশ্রমিকে করোনা ইউনিটে কর্মরত হাসপাতালের ৩ কর্মচারী

সর্বশেষ আপডেটঃ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা শনাক্তের মত মূল কাজ করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ কর্মচারী। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ৬ মাস যাবদ তারা বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে করোনা ইউনিটের প্রধান কাজটি করছে। এ কাজ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে এক কর্মচারী স্বপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মহামারী করোনাকালীন সময়ে নানা প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও করোনা ইউনিটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে ৩টি যুবক কাজ করছে তাদের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। সংক্রমিত হওয়ার আশংকায় মানুষ যখন অনেক আপনজনকে ভুলে যাচ্ছে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে আবার চাকুরির কোন নিশ্চয়তা নাই এ সব জানারপরও প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত মানুষের সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া ৩ কর্মচারী রিয়াজ মুর্শিদ, কৃষ্ণ সরকার ও সীমান্ত।
মূলত এরা ৩ জন ২০২০ সালের মে মাসে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। ওয়ার্ল্ড ভিশনের একটি প্রকল্পে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে তারা যোগদান করেন। মুক্তি ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা তাদের বেতন ভাতা প্রদান করলেও তাদের নিয়োগ দেন সিভিল সার্জন কার্যালয়। এ প্রকল্পের আওতায় তারা সর্বশেষ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত তাদের বেতন ও সম্মানী পেয়েছে। এরপর জানুয়ারি ২০২১ থেকে অধ্যাবধি অর্থাৎ গত ৬ মাস যাবৎ তারা কোন পারিশ্রমিক কিংবা বেতন ভাতা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে করোনা ইউনিটের মূল কাজ অর্থাৎ করোনা সনাক্তের যে কাজটি সেটি তারাই মূলত করছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সীমান্ত জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে কাজ করতে হয়। বিশেষ করে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০/৫০ থেকে শুরু করে তারও বেশি লোকের স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করতে হয়। বর্তমানে নমুনা সংগ্রহকারী অর্ধেকেরও বেশি মানুষের পজেটিভ শনাক্ত হচ্ছে। কৃষ্ণ সরকার জানান, প্রতিদিন কোভিড-১৯ পরীক্ষা করতে আসা মানুষের সাথে সরাসরি কাজ করতে হচ্ছে। করোনার মূল কাজটি অর্থাৎ সনাক্তের মত মূল কাজটি আমরাই করছি। প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা যেমন ল্যাবে কাজ করছি, তেমনি আবার কোথাও কেউ মারা গেলে তার নমুনা সংগ্রহের জন্য সেখানেই ছুটে যেতে হয়। অনেক সময় আমরা আমাদের যাতায়াত খরচটিও পাই না। এভাবেই আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা মুখপাত্র ডাঃ ইফতেখার বিন রাজ্জাক জানান, শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনার মূল কাজটি রিয়াজ, কৃষ্ণ ও সীমান্ত এরাই করে আসছে। কিন্তু এদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৬ মাস বিনা পারিশ্রমিক এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অনেকটাই সাধারণ মানুষ ও আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রিয়াজ ও তার পরিবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। আমরা তাদের কোন বেতন ভাতা দিতে পারিনা এটা অত্যান্ত দুঃখ জনক। তাদের এ বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডাঃ ইফতেখার জানিয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও করোনার জন্য যে ৩ জন কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে তাদের জন্য নেই কোন সামান্যতম ব্যবস্থা। চাকুরি স্থায়ীকরণ সহ নূন্যতম মানবিক ব্যবস্থা করা হোক এমন দাবী সকলের। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্মরত ৩ কর্মচারীসহ তাদের পরিবার পরিজন।
(ঊষার আলো-এমএনএস)