পাইকগাছায় স্যার পিসি রায় স্মৃতি সংসদের ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা : পাইকগাছার নির্মাণাধীন কৃষি কলেজ বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণ ও কলেজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ এবং বিজ্ঞানীর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে স্যার পিসি রায় স্মৃতি সংসদ। সংগঠনটি সম্প্রতি এ ধরণের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় চৌধুরী ও মাতা ভূবন মোহিনী দেবী। তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, শিল্পপতী, রসায়নবিদ, সমাজসেবক, সমবায় আন্দোলনের পুরোধা ও রাজনীতিবিদ। তিনি কলিকাতার মানিক তলায় ৮শ’ টাকা পূঁজি নিয়ে বেঙ্গল কেমিকেল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ঔষধ শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ঐ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে।

পিসি রায় দেশের সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের মিল ও জন্মভূমি রাড়ুলীতে একমাত্র সমবায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। একাধারে তিনি ২০ বছর কলিকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বৃটিশ সরকার তাকে ১৯৩০ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া একই বছর লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের মহিশুর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৯০৩ সালে নিজ গ্রামে পিতার নামে আর কে বি কে হরিশ্চন্দ্র ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৮ সালে বাগেরহাট কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৫ সালে বিজ্ঞানীর ছাত্র শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক বাগেরহাট পিসি কলেজ নামকরণ করেন। ১৮৫০ সালে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় বিজ্ঞানী পিসি রায়ের পিতা হরিশ্চন্দ্র নিজ গ্রাম রাড়ুলীতে স্ত্রী ভূবন মোহনীর নামে দেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

জগৎদ্বিখ্যাত চিরকুমার এ বিজ্ঞানী ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন পরলোক গমন করেন। বিজ্ঞানী জীবনের অর্জিত সকল সম্পদ মানব কল্যাণে দান করে যান। তার প্রতিষ্ঠিতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ী সংরক্ষণসহ নানা দাবি নিয়ে সোচ্চার রয়েছে স্যার পিসি রায় স্মৃতি সংসদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে ৫ দফা দাবী করা হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মুহাম্মদ কওসার আলী গাজী জানান, প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমরা যে ৫টি দাবি করেছি সে গুলো হলো, বিজ্ঞানীর বসতভিটা সংরক্ষণের জন্য কপোতাক্ষ নদের ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, উপজেলা সদরের পাশেই নির্মাণাধীন কৃষি কলেজকে বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণ ও কলেজটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, বিজ্ঞানীর বসতবাড়ীকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করার লক্ষে রেস্ট হাউজ নির্মাণ, সংগ্রহশালা ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা, বিজ্ঞানী পিসি রায়ের জীবনী সম্পর্কিত একটি অধ্যায় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা ও বিজ্ঞানীর পিতা-মাতার নামের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট ইনস্টিটিউশনকে ডিগ্রী কলেজে রূপান্তর ও জাতীয়করণ এবং দেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় ভুবণ মোহনী বালিকা বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)