পূর্বশত্রুতার জেরে ধানের চারা পোড়ানোর অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেটঃ
মনিরামপুরে দুর্ত্তদের পুড়িয়ে দেয়া ধান ক্ষেত - ঊষার আলো

মোঃ মেহেদী হাসান, মণিরামপুর : যশোরের মনিরামপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে এক কৃষকের দেড়বিঘা জমির ধানের চারা পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, আলী হায়দার নামে এক ব্যক্তি উপজেলার পলাশী মাঠে ঘাস পোড়া ওষুধ ছিটিয়ে মিজানুর রহমানের আমনের ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনি বিষয়টি রোহিতা ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যকে জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বাড়ি বাসুদেবপুর গ্রামে। আর অভিযুক্ত আলী হায়দারের বাড়ি পলাশী গ্রামে।

মিজানুর রহমান বলেন, আলী হায়দারের বাড়ির পাশে আমার ১ বিঘা ১৩ কাঠা আবাদি জমি রয়েছে। চার বছর আগে সেখান থেকে ১৫ কাঠা জমি ৬৫ হাজার টাকায় বন্ধক নেন আলী হায়দার। টাকা লেনদেনের সময় স্ট্যাম্পে লিখিত হয়নি। তিনমাস আগে ৬৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে গেলে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করেন আলী হায়দার। একপর্যায়ে আমি তাকে ৬৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে জমি দখলে নিই।

মিজানুর বলেন, এরপর থেকে জমিতে ফসল করতে দেবে না বলে হুমকি দেন আলী হায়দার। একমাস আগে জমিতে লাঙল দিতে গেলে তিনি বাধা দেন। হুমকি উপেক্ষা করে আমি ধানের চারা রোপন করেছি। তিনি বলেন, কয়েকদিন জমিতে আসতে পারিনি। গত শনিবার দুপুরে এসে দেখি জমির ৭০ ভাগ ধানের চারা পুড়ে গেছে।

মিজানুরের অভিযোগ, শত্রুতা করে আলী হায়দার জমিতে ঘাস মারা অথবা গোড়া পচা বিষ ছিটিয়ে তাঁর ক্ষতি করেছেন। আকবর কবির নামে এক কৃষক বলেন, মিজানের ক্ষেতের পাশে আমার জমি। ওদের দুই জনের মধ্যে দ্বন্ডদ্ব রয়েছে। জমি চাষ করার সময় আলী হায়দার বাধা দেন। তিনি আবাদ করতে দেবেন না বলে মিজানকে হুমকি দেন।

অভিযোগের ব্যাপারে আলী হায়দার বলেন, মিজানের কাছে আমি ১০ হাজার টাকা পাব। সে টাকা দিচ্ছে না। তাইবলে তাঁর ফসলের ক্ষতি করতে হবে কেন। আমি তাঁর জমিতে কিছু দিইনি। জমির পানি বিষাক্ত হয়ে ধানের চারা পচে গেছে।

রোহিতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করব।

রোহিতা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুহিন বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখছি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)