UsharAlo logo
বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়া সেই ভূমি অফিসকর্মী সাময়িক বরখাস্ত

usharalodesk
এপ্রিল ১, ২০২৪ ১:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট: নিজ দপ্তরে বসে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবদুল কাদির মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার বিকালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ঘুস ছাড়া কোনো কাজ করেন না কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী। ভূমি অফিসে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ দূরের কথা, সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কোনো কথাই বলেন না তারা। এবার সেই ঘুস নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিকমাধ্যমে। যেখানে প্রকাশ্যে গুনে গুনে ঘুস নিতে দেখা যায় ভূমি অফিসের অফিস সহকারী আবদুল কাদির মিয়াকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাইজখাপন ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুস-অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ঘুস ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না— এ কথা সেবাগ্রহীতাদের মুখে মুখে। ঘুস ছাড়া কাজ করানোর চেষ্টা করে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। সম্প্রতি অফিস সহকারী আবদুল কাদির মিয়া নিজ অফিসে বসে গুনে গুনে ঘুসের টাকা নিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিও ক্লিপ তার কথোপকথনসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি তার দপ্তরে বসে সেবাপ্রার্থী ভোলা মিয়ার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুস প্রকাশ্যে গুনে নিচ্ছেন। ভিডিওতে ভোলা মিয়া বলছেন, ‘সব খারিজ সমান না। গরিব মানুষ, কাজটা করে দেন।’ উত্তরে অফিস সহকারী আবদুল কাদির বলছেন, ‘কথা ছিল ৬ হাজার টাকা দেবেন। কম দিতে পারবেন না। প্রয়োজনে পরে হলেও দিতে হবে। একটা কাজ করে কিছু টাকা পাওয়া না গেলে চলে না।’ এর পর টাকাগুলো গুনে গুনে পকেটে ভরেন।

চলে যাওয়ার সময় ভোলা মিয়া আবারও বলেন, ‘আপনি আবদার করেছেন একটা বিহিত হবে। আপনি কাজটা করে রাখুন।’

ঘুস নেওয়ার এমন ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে এলাকার মানুষ ওই অফিস সহকারী ও ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, ঘুস ছাড়া কোনো কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা মীর আবুল হাতিম ও অফিস সহকারী আবদুল কাদির।

ঊষার আলো-এসএ