বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলার নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল : সিটি মেয়র

সর্বশেষ আপডেটঃ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক।

ঊষার আলো ডেস্ক : খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে পড়ার সময়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ লাভ করতে থাকে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলার নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল। ১৯৪৮-৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮’র আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৮’র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর মাত্র ৫৪ বছরের জীবনের এক-চতুর্থাংশই কেটেছে কারাগারে; তার পুরো জীবনটাই ছিল বাঙালির জন্য নিবেদিত; সেজন্য ফাঁসির মঞ্চকেও তিনি ভয় পাননি। বাঙালি আর বাংলাদেশের সঙ্গে এমনই অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছিলেন শেখ মুজিব; টুঙ্গিপাড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মহানায়ক হয়ে উঠে এসেছেন জাতীয় অঙ্গনে, এরপর দ্যুতি ছড়িয়েছেন বিশ্বমঞ্চে। তিনি আরো বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে পরিবারের প্রায় সকল সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর জনগণের রায়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু করে। এ হত্যাকান্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সোনার বাংলায় তার বাংলাদেশকে পৌঁছে দিতে আজকের অভিযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন তারই মেয়ে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা দৃঢ় সঙ্কল্পে আবদ্ধ হই- বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় আরো উচ্চাসনে নিয়ে যাব। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তাঁরই কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে তাকে সাংগঠনিক ভাবে সহায়তা করতে হবে।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকাল ৪টায় খুলনা নিউ মার্কেট ঝিনুক হল চত্বরে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। জনসভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হায়দার আলী, আবুল কালাম আজাদ কামাল, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান, মহানগর যুব লীগের আহ্বায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, শেখ আবিদ উল্লাহ, এ্যাড, শামীম আহমেদ পলাশ, যুব নেতা শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, এ্যাড. নুর জাহান রুমী, জাহাঙ্গীর হোসেন, রুম্মান আহমেদ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ^াস। সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহম্মেদ আশার পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাজী এনায়েত হোসেন, মল্লিক আবিদ হোসেন কবির, অধ্যক্ষ আলমগীর কবির, মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, মো. শাহজাদা, হাফেজ মো. শামীম, নুর মোহাম্মদ নুরু, এ্যাড. সরদার আনিসুর রহমান পপলু, শেখ মোশাররফ হোসেন, কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ^াষ, এস এম মনিরুজামান সাগর, এস এম আকিল উদ্দিন, একেএম শাহজাহান কচি, কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম, আমির হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস পিকুল, এস এম রাজুল হাসান রাজু, আব্দুল কাইঊম গোরা, এজাজ পারভেজ বাপ্পী, আলি আকবর, মো. রুহুল আমীন খান, শিপন চৌধুরী, ইঞ্জিঃ আব্দুল জব্বার, তোতা মিয়া ব্যাপারী, মেহজাবিন খান, খাজা মঈন উদ্দিন, সেলিম খান মঈন, শাহাদাত হোনেন, কাজী রকিবুল হক পলাশ, হায়দার আলী খোকন, মো. রাজ্জাক হোসেন, মোস্তাক আহমেদ টুটুল, মাহাবুব মম, শেখ কুদ্দুস হোসেন, মো. সবুর হোসেন, সোহেল চৌধুরী, এ্যাড. রাকিব, এমএম মামুন, মহাদেব সাহা, মুন্সি আইউব আলী, চ ম মুজিবর রহমান, শেখ নুর ইসলাম, মো. জাহিদুল হক, শেখ আব্দুল আজিজ, মো. জাহিদুল ইসলাম, শেখ হাসান ইফতেখার চালু, ইউসুফ আলী খান, সরদার আব্দুল হালিম, হাজী মোতালেব মিয়া, শেখ রুহুল আমিন, মো. জাকির হোসেন, মীর মো. লিটন, নাহিদ মুন্সি, কবির পাঠান, আঞ্জুমানআরা বেগম, নুরিনা রহমান বিউটি, জাহানারা সিরাজ, মনোয়ারা বেগম, সাহানা বানু, কহিনুর রাজ্জাক, লুৎফুন্নাহার লিলি, কবিতা আহমেদ ওসি, সাহানা বেগম, কবিতা আহমেদ, সাবিহা ইসলাম আঙ্গুরা, আসমা আহমেদ, লাকি আক্তার, তামান্না ইসলাম, রেশমা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

(ঊষার আলো-এমএনএস)