বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া হাট ও গ্রামটি নদী গর্ভের পথে

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে বারোআড়িয়া নদী ভাঙ্গন। খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বারোআড়িয়া বাজারটি আজ ভদ্রা নদীর গ্রাসে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাজারটি থেকে সরকার প্রতিবছর রাজস্ব পায় লাখ-লাখ টাকা। অথচ সরকারের কোন সু-নজর নেই এই বাজারটির দিকে। শুধু বাজার নয়, বারোআড়িয়া গ্রামটিও নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে আজ বাজার এবং গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতশত বিঘা ফসলি জমি, মাছের পুকুরসহ লীজ ঘের ও অর্ধশত কাছা পাকা বাড়িঘর ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। অনেকে তাদের জমি জায়গা হারিয়ে হয়েছে পথের ফকির। নদী গর্ভে বিলুপ্ত হওয়া অনেক পরিবার এলাকার ছেড়ে অন‍্যত্র চলে গেছে। অনেকে রয়েছে সরকারি রাস্তায়। অন্যদিকে প্রতিবছর ভদ্রা নদীর গ্রাসে ওয়াপদা ভেড়িবাধ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য ঘেরের মাছ চাষিরা লাখ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলছে বৃষ্টির মৌসুম,তাই অবিলম্বে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের দৃষ্টি আকর্শন করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসি।
সোমবার (৫ জুলাই) এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বারোআড়িয়া বাজার ও গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে ধীরে ধীরে মানচিত্র হারিয়ে যেতে বসেছ। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়া মোবারক গাজী, হোসেন শেখ, সাত্তার, পিন্টু গোলদার, ডাক্তার শচীন্দ্রনাথ মন্ডলসহ অনেকে বলেন, এক সময় আমাদের সব কিছু ছিল। নদী ভাঙ্গনে আজ আমাদের কিছুই নেই। বতর্মানে যা কিছু আছে তাও ভদ্রা নদীর ভাঙ্গনের চলে যেতে বসেছে। আমরা সরকারের নিকট জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধের ব‍্যব¯হা গ্রহনের জোর দাবি করছি। অপরদিকে নদী গর্ভে বাড়িঘর জমি যায়গা সব কিছু হারিয়ে সরকারি রাস্তার উপর বসবাসকারি ও নদী গর্ভে বিলুপ্ত হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব‍্যাক্তি শংকর শীল, সুষমা, নিলীমা টিকাদার, শেফালী, পূর্নিমা, ফুলমতি, সোকিনা, হামিমা, টুকি, আবারুল, রুস্তম, আলো, ইসাখা, কারিমূলসহ অনেকে বলেন, আমাদের যাওয়ার আর জায়গা নাই। কাছে টাকা পয়সাও নাই, যে জমি কিনে অন্যত্র চলে যাব। তাই বিভিন্ন লোকজনের অপমান ও হয়রানির মধ্যে দিয়েও আমরা এই সরকারি রাস্তার উপর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে কোন কাজ কাম নাই। তার পরেও চলছে লকডাউন। আমরা এখন কি করে বেঁচে থাকব ভেবে পাচ্ছি না। সরকারি বিভিন্ন সাহায্য আসলেও সেটা আমরা ঠিকমত পাইনা। ফলে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। ভুক্তভোগী এইসব পরিবার তাদের একটি নিজস্ব ঠিকানা চায়। যেন রাস্তায় বসবাস করতে না হয় তাদের।
এ ব‍্যাপারে বাজার কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর গাজী বলেন, আমাদের বাজারের ভাঙ্গনের বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলেছি। কিন্তু বলার পরেও কোন কাজ হয়না। অথচ সরকার এই বাজার থেকে লাক্ষ লাক্ষ টাকার রাজস্ব পায় প্রতিবছর। ভুক্তভোগীরা বাজার ও গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন‍্য জরুরি ভিত্তিতে অশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সরকারের কাছে।
এ ব‍্যাপারে বটিয়াঘাটা নির্বাহী অফিসার মো: নজরুল ইসলাম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার ভাঙ্গনের বিষয়টি আমারা কর্তৃপক্ষসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা অতিসত্তর বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও রাশেদুল ইসলামের নিকট নদীভাঙ্গনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৯ নং পোল্ডারের বারোআড়িয়া টু ডুমুরিয়া সড়কে বারোআড়িয়া বিশ্বাস বাড়ি থেকে কলেজ মোড় পযর্ন্ত ওয়াপদা রাস্তাটি চরম ঝুকিপূর্ণ। মোট ৭ শত মিটার এলাকা নিয়ে ভাঙ্গন। বতর্মান ২৫ মিটার জায়গা নিয়ে নতুন করে তীব্র আকার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীতে জোয়ারের সময় প্রচন্ড স্রোতের ফলে রাস্তাটি ভেঙ্গে যায়। ইতিমধ্যে আমরা জাপান ইন্টারন‍্যাশনাল কো-অপরেশন এজেন্সি (জাইকা) কে বিষয়টি জানিয়েছি। খুব শিঘ্রই ভাঙ্গনের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
(ঊষার আলো-এমএনএস)