বর্ষার অজুহাতে সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : কয়েকদিনের টানা বর্ষণে কৃষকদের ফসলের ক্ষেত প্লাবিত হওয়ার দরুন সবজির সরবরাহ কমের অজুহাতে নগরীর দৌলতপুর বাজারে সম্প্রতি সময়ে সবজির দাম অকল্পনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এমন অভিযোগ বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদের।

যদিও ভারী বর্ষণের কারণে সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এ কথা মিথ্যা নয় তবে এ অজুহাতে বাজারে বর্তমানে যে সকল সবজি সরবরাহ হচ্ছে তা ৮ হতে ১০ দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুন বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে এই কথার বিপরীতে দৌলতপুর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতাগণ জানিয়েছেন তারা পাইকারী বাজার হতে যে দামে সবজি সরবরাহ করছেন তা হতে ৫/৭ টাকার ব্যবধানে সবজি ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেছেন। ভারী বর্ষনের কারণে কৃষকের সবজির ক্ষেত বিনষ্ট হওয়ার দরুন পাইকারী বাজার হতে বর্তমানে বেশি দামে সবজি কেনা লাগছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে, শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর দৌলতপুর খুচরা কাঁচা বাজার ঘুরে বাজারের এমই বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ক্রেতারা। নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির এই ধারাবহিক ক্রমাগত দামবৃদ্ধি ভাবিয়ে তুলেছে দৌলতপুর খেটে খাওয়া সাধারণ নিন্ম আয়ের মানুষ বিশেষ করে দিন-মুজুর, কুলি, রিক্সাচালক, যানবহন চালক সহ নিম্ন- আয়ের মানুষদের।

সবজি বিক্রেতা দুলাল জানান, বর্তমানে বাজারের সবজির দাম কয়েকদিনের তুলনায় বেশি। কারণ কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষনের কারণে কৃষকের ক্ষেত তলিয়ে গেলে। তাই মোকামে পাইকারেরা বেশি দামে সবজি ক্রয় করছে, আর তারই প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। তাছাড়া বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনার সবজি সরবরাহ কম। গত দুই সপ্তাহ আগে যে পরিমানে কাঁচা সবজির দাম বেড়েছিল তার তুলনায় বর্তমানে কম।

একাধিক ব্যবসায়ী বলেছেন, ভারী বর্ষনের কারণে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার দরুন কাঁচা সবজির সরবরাহ কিছুটা কম থাকা এবং স্থানীয় অঞ্চল হতে ব্যবসায়ীদের আনা বাজারে কম আসায় এমন দশা। যে কারণে পাইকারী বাজার ঘরে খুচরা বাঁজারে সবজির দাম বেশি।

সরেজমিনে, দৌলতপুর সবজি খুচরা বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, বরবটি শিম ৬০ টাকা, কঁচুরমুখী ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, ধুন্দল ৩০ টাকা, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ৩০ টাকা, টমোটো ৮০ টাকা, খিরাই ৮০ টাকা, কাচা মরিচ ১৫০/১৬০ টাকা, লালশাক ৪০ টাকা, দেশি সীম ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দৌলতপুর কাঁচা বাজার খুচরা মালিক সমিতির সভাপতি, বাজার কমিটির সাবেক মেম্বর, ব্যবসায়ী পলাশ শেখ জানান, কয়েকদিনের টাকা বর্ষনের কারণে কৃষকের সবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়াই ফসল নষ্ট হওয়ার দরুন পাইকারি বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজি সরবরাহ কম। তাই পাইকারদের নিকট হতে আড়ৎদার এবং খুচরা ব্যবসায়ী উভয়কেই একটি বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে।

ক্রেতা সৌরভ জানান, বর্তমানে বাজার সেই লকডাউনের মধ্যে যে পরিমান সবজির দামে বৃদ্ধি পেয়েছিল সম্প্রতি একই রকম সবজির দাম। কয়েকদিন আগেও ১০০ টাকা সবজি নিয়ে ২/৩ দিন চলে যেত। আর বর্তমানে ১০০ টাকায় ১ দিনের বেশি যায়না। ভারী বর্ষায় ক্ষেত প্লাবিত হওয়ার অজুহাতে সবজির দাম বেশি নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা বলে একাধিক ক্রেতার অভিযোগ।

(ঊষার আলো-এমএনএস)