তদন্ত কমিটি গঠন

বাগেরহাটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নামে বরাদ্দের অর্থ লোপাটের অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেটঃ

আরিফুর রহমান, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মচারির যোগসাজসে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সরকারের বরাদ্দের অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পের নাম দেখিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কতিথ নৃ-গোষ্টির লোকেরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগের পেক্ষিতে গত প্রায় ৪ মাস আগে একটি তদন্ত কমিটি করা হলেও অভিযোগের কোন তদন্ত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যথাযথ তদারকি করলে প্রতি বছর সরকারি টাকার এমন লুটপাটের ঘটনা ঘটতো না। কারণ এ লুটপাটের সহযোগিতা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের অসাধু কর্মচারীরা। এলাকার তুষার বিশ্বাস নামের একজন অভিযোগকারি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের অনাদি ম-ল ও তার স্ত্রী ফুলমালা বর্মন তাদের ছেলে তীর্থ মন্ডলের নামে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের ঠিকানায় ‘তীর্থ আদিবাসি সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সমিতি গঠন করে। যার কার্যালয় হিজলা গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের বেন্নাবাড়ি এলাকায়। সমিতির সভাপতি পদে স্ত্রী ফুলমালা বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্বামী অনাদি ম-ল। আর এ সমিতির নামে তারা ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া সদস্য দেখিয়ে সরকারের টাকা আত্মসাত করে চলেছে।

অভিযোগ রয়েছে এ সমিতিরি নামে বরাদ্দকৃত টার্কি মুরগীর খামার দেখিয়ে ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, সমিতির অর্থে অনাধি মন্ডল দম্পতি ১২ লাখ টাকার জমি ক্রয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নামে অর্থ নিয়ে লোপাট, ৫ লক্ষাধিক টাকার মাহেন্দ্র নিজের দায়িত্বে রাখা, এ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের নামে আসা উপবৃত্তির টাকা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে আত্মসাত করারও অভিযোগ রয়েছে।

তুষার বিশ্বাস আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির জন্য বরাদ্দের অর্থ ও প্রকল্প তদারকি করার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। অথচ, এ কাজে চিতলমারি উপজেলা নির্বাহি অফিসের বিষ্ণু বাবুসহ কতিপয় কর্মচারী নিজেরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে ওই সমিতির নামে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে অধিকাংশ নৃ-গোষ্টি সম্প্রদায় কে বঞ্চিত করেছে। এ ঘটনায় ৪ মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও আজও সেই তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ রহস্যজনক কারনে তাদের তদন্ত করে নাই বলে জানতে পেরেছি।

অভিযোগ বিষয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের অনাদি ম-ল বলেন, এই প্রকল্পের সভাপতি ইউএনও স্যার। নৃ-গোষ্ঠির সম্প্রদায়ের জন্য যে অনুদান আসে তা ইউএনও স্যারের তদারকিতে হয়, সেখানে আমি একজন সদস্য মাত্র।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের একটি সমিতির সভাপতি আমার স্ত্রী ও আমি সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা সত্য নয়। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু মুছা রবিবার বলেন, আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা প্রদান করা হবে। ঘটনা বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লিটন আলী বলেন, ঘটনাটি আমার যোগদানের আগে। এরপর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। যা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু মুসা ও সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। মহামারি করোনার লক ডাউনের কারনে অফিস বন্ধ থাকায় তদন্ত কার্যক্রম একটু বিলম্ব হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে আমার অফিসের কেউ জড়িত আছে এমনটি প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।