বাগেরহাটে চেয়ারম্যান পদে ২৮ ইউপির নৌকা প্রতিকে ২৬ ও স্বতন্ত্র ২ জন জয়ী

সর্বশেষ আপডেটঃ

বাগেরহাট প্রতিনিধি : দলীয় প্রতিকে ইউপি নির্বাচনে প্রথম ধাপের তফসীলে বাগেরহাটের ৬৬টি ইউনিয়নের ৬৫ ইউনিয়নে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী নির্বাচন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ২৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার বিপক্ষে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেন।

রাজ নৈতিকভাবে বিএনপি-জামায়াত এ নির্বাচনে মাঠে না থাকায় ২৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন। বাকী ২৬ টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যপক জনপ্রিয় বিজয়ী স্বতন্ত্র দুই চেয়ারম্যান হলেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলার আলোচিত হোগলাপাশা ইউনিয়নের মোঃ ফরিদুল ইসলাম ও একই উপজেলার বারুইখালি ইউনিয়নের মোঃ আউয়াল খান মহারাজ।

নির্বাচনি পরিবেশ না থাকার অজুহাতে বিএনপি- জামায়াতের ভোট বর্জন, অন্য দলের প্রার্থী না থাকায় মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিনেই নৌকা প্রতিকের ৩৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকেন। এরমধ্যে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নিশান বাড়ীয়া ইউনিয়ন আদালতের নির্দেশনা নির্বাচন স্থগীত রাখা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ বেনজির আহম্মেদ ফরাজি এ প্রতিবেদক কে বলেন, বাগেরহাট জেলার মোট ৭৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথমধাপে ৭০ টি ইউনিয়নের তফসীল ঘোষনা করা হয়। এর মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের চলমান চেয়ারম্যানরা মারা যায় ও একটি আদালত কর্তৃক স্থগিত থাকায় এবং কচুয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে চেযারম্যানসহ সকল মেম্বররা বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় থাকায় ৬৫ টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম না করায় স্ব স্ব উপজেলার রিটানিং অফিসাররা নির্বাচনি ফলা ফল তৈরী করে পাঠাবে। এ কারনে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনের সকল ফলাফল জেলায় আসে নাই। প্রথামিক ভাবে পাওয়া তথ্য মতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে নৌকা প্রতিকের ২৬ জন ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এর আগে ৩৮ জন কে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার রিটানিং অফিসারদের প্রাথমিকভাবে দেয়া ফলাফল মতে নৌকা প্রতিকের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়নে রাজ্জাক মজুমদার পুনঃরায় দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নে সামছুর রহমান মল্লিক, বনগ্রামে রিপন দাস, বলইবুনিয়ায় শাহজাহান আলী, হোগলাবুনিয়ায় মোঃ আকরামুজ্জামান, বহরবুনিয়ায় রিপন তালুকদার,মোরেলগঞ্জ সদরে হুমায়ুন কবির মোল্লা, তেলিগাতী ইউনিয়নে মোরশেদা আক্তার, পুটিখালীতে আব্দুর রাজ্জাক, রামচন্দ্রপুর আব্দুল আলিম, জিউধরায় জাহাঙ্গীর আলম বাদশা এবং চিংড়াখালী ইউনিয়নে আলী আক্কাচ বুলু। বিজয়ী স্বতন্ত্রপার্থীরা হচ্ছেন হোগলাপাশা ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা মোঃ ফরিদুল ইসলাম এবং বারইখালী ইউনিয়নে আব্দুল আউয়াল খান মহারাজ।

কচুয়া উপজেলার দুই ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, ধোপাখালিতে শেখ মকবুল হোসেন এবং মঘিয়ায় পঙ্কজ কান্তি অধিকারি। রামপাল উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, বাইনতলায় ফকির আব্দুল্লাহ, উজুলকুড়ে মুন্সি বোরহান উদ্দিন, গৌরম্ভায় মোঃ রাজিব সরদার এবং পেড়িখালি ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম বাবুল।

চিতলমারী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, বড়বাড়িয়ায় মোহাম্মাদ মাসুদ সরদার, সদর ইউনিয়নে মোঃ নিজাম উদ্দিন শেখ এবং কলাতলায় মোঃ বাদশা মিয়া। ফকিরহাটে ৩টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, লখপুরে এমডি সেলিম রেজা, বাহিরদিয়ায় রেজাউল করিম ফকির এবং শুভদিয়ায় মোঃ ফারুকুল ইসলাম এবং শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মাইনুল ইসলাম টিপু বিজয়ী হয়েছেন।

 

(ঊষার আলো-আরএম)