নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত

বাগেরহাটে মাছের ঘের লুটসহ পৃথক সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

সর্বশেষ আপডেটঃ

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে সদ্য সমাপ্ত হয়ে যাওয়া ইউপি নির্বাচন পরবর্ত্তি সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরিন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ, হানাহানি মাছের ঘের লুটপাট হওয়ায় এখানের পুলিশ প্রশাসন কার্যতঃ কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

থানা পুলিশ ও এলাকা ভিত্তিক ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, শুকবার জুমার নামাজ শেষে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের শেখরা গ্রামে জামে মসজিদের সম্মুখে নির্বাচন পরবর্তী দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। মসজিদ থেকে বের হয়ে ইটপাটকেল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। উভয় পক্ষের আহত ১৫ জন কে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে।

এরা হলেন, শেখরা গ্রামের রুবেল মল্লিক, সোহেল শেখ, শওকত শেখ, রাসেল শেখ, রবিউল শেখ, সাইফুল শেখ, মাহতাব মল্লিক, সজিব মোল্লা, কামরুল ফকির, মল্লিক ইমামুল কবির, সোহেল মল্লিক, জাহাঙ্গীর মল্লিক, বাবুল ফকির, তৈয়ব আলী মল্লিক, আলম মল্লিক, মহিউদ্দিন শেখ। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবুল ফকিরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী আনিস শেখ এবং পরাজিত প্রার্থী আব্দুল লতিফের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে সংঘর্ষের সময়, দুই প্রার্থীর কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। খবর পেয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও হামলাকারি কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষ কারও বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেনি। এদিকে ইউপি নির্বাচনের পর একই ইউনিয়নের কুলিয়াদাইড় এলাকার ভগিরত দত্ত(৪৫), হরিচান কর্তা (৩৩) ও মহাদেব দাস (৫০) কে প্রকাশ্য রাস্তার পরে বেধড়ক মারপিট করেছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসিরা। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ভগিরত দত্ত শুক্রবার বাগেরহাট মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগে বলা হয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসি ও মাদক বিক্রেতা আলমগীর , রুবেল মোল্লা, মিন্টু সেখ, আকবর শেখ নাঈম সরদারসহ ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী লোহার রড, হাতুড়ী. হিকস্টিক নিয়ে নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছে।

তাদের বিপক্ষের মনে করে বিষেশ করে হিন্দু সম্প্রদায় কে হুমকী-ধামকী দেয়াসহ মারপিট অব্যাহত রেখেছে। এর আগে কুলিয়াদাইড় চর এলাকার বিকাশ চন্দ্র দাসের মাছের ঘের প্রকাশ্য দিবালোকে লুট করে নিয়েছে ওই সন্ত্রাসীরা। এদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগিরা।

বাগেরহাট মডেল থানার ওসি কেএম আজিজুর ইসলাম বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ মুহুর্তে শেখরা জামে মসজিদের সামনে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশকয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর কুলিয়াদাইড় এলাকায় মাছের ঘের লুট ও পরে মারপিটের ঘটনায় পৃথক ২ টি অভিযোগ থানায় দেয়া হয়েছে। যা তদন্ত প্রক্রিয়াধিন। উল্লেখ, ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পরে বাগেরহাটে কমপক্ষে ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রচার পেয়েছে। একজন নির্বাচিত মেম্বরসহ বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন বলেও পুলিশ জানায়।

(ঊষার আলো-আরএম)