দলীয় প্রতিকে ইউপি নির্বাচন

বাগেরহাটে ৫০ আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৬৬ ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন

সর্বশেষ আপডেটঃ

বাগেরহাটে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

আরিফুর রহমান, বাগেরহাট : দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে বাগেরহাটে দুই জন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন, আগের রাত থেকে সোমবার নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নির্বাচনি সহিংসতায় নারীসহ অর্থশতাধিক লোক আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

অভিযোগে প্রকাশ ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলা, সামনা-সামনি নৌকায় ভোট প্রদানে জোর প্রয়োগ, এজেন্টদের মারধরসহ নানা অভিযোগ উত্থাপন করে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঘোষণা দিয়ে ভোট বর্জনকারী প্রার্থীরা হলেন, জেলার ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতিকের মোঃ আব্দুল আউয়াল এবং কচুয়া উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতিকের মাসুদ রানা লালন। যদিও ধোপাখালি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে প্রকাশ্য ভোট প্রদানে সহায়তা করায় সুখদেব মন্ডলসহ দুইজন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে।

আনারস প্রতিকের প্রার্থী মোঃ আব্দুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যেকটি কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। মারধরও করেছে কয়েকজনকে। এছাড়া তেকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকায় ভোট না দেয়ায় হোসনেয়ারা বেগমসহ দুইজনের ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় আমি নির্বাচন বর্জন করলাম।

তেকাটিয়া কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শ্যামল কুমার সাহা বলেন, প্রথম দিকে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। পরে সুষ্ঠ পরিবেশ ছিল। শুভদিয়া ইউনিয়নে দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। এরা হলেন নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোঃ ফারুকুল ইসলাম ও আনারস প্রতিকের প্রার্থী মোঃ আব্দুল আউয়াল।

কচুয়ার ধোপাখালি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন প্রতিটি কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে এবং মারধর করেছে। আমি খবর পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় এজেন্টদের আবার কেন্দ্রে ফিরাই। কিন্তু প্রশাসন চলে গেলে, তারা বার বার আমার এজেন্টদের মারধর করে এবং ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি নৌকা প্রতিকে দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করছেন নৌকার লোকেরা। এ অবস্থায় ভোটের পরিবেশ না থাকায় আমি ভোট বর্জন করছি।

মাসুদ রানা আরও বলেন, নৌকার সমর্থকদের তান্ডবের বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা চলে গেলে নৌকার সমর্থকরা আবারও তান্ডব শুরু করেন। ধোপাখালি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং প্রনব কুমার বিশ্বাস বলেন, ভোট বর্জন করেছেন কিনা আমার জানা নেই। তিনি এখনো লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানান নি। তবে সকালে কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। আমি তাৎক্ষণিক তার অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

এদিকে শরণখোলা উপজেলায় রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে পৃথক-পৃথক নির্বাচনী সহিংসতায় ৩০ জন শরণখোলা হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে ৬ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয় বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া নির্বাচন চলাকালে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বলভদ্রপুর এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সর্মথকদের হামলায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর নারীসমর্থক সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মোংলা উপজেলায় রবিবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এসময় এক নারী হ্নদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। চিতলমারি উপজেলার বড়বাড়িয়া এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে তবে কোন আহত হয়নি বলে পুলিশ জানায়।

জেলার স্ব-স্ব উপজেলার রিটার্নিং অফিসাররা জানান, মোড়েলগঞ্জ ও শরনখোলা উপজেলায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোট কাষ্ট হয়েছে। আর যেসব ইউনিয়নে চেযারম্যানরা বিনা ভোটে রয়েছেন সেখানে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)