বিএডিসি’র কোটি টাকার সবজি বীজের মিলছে না হদিস

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : বিএডিসির চারটি জেলার বিভিন্ন বীজ বিতরণ কেন্দ্র থেকে বিক্রয়কেন্দ্রে পাঠানো ৫ লাখ ১৬ হাজার কেজিরও বেশি সবজি বীজের হদিস মিলছে না। কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে দেখা মিলছে না ওই বীজের। নানা নিরীক্ষা করেও হিসাব মেলাতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এতে সংস্থাটি পড়েছে এক কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে। সরকারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মিরপুর বিএডিসির উপপরিচালকের (সবজি বীজ) কার্যালয় থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চারটি জেলার বীজ বিতরণ কেন্দ্রে ৮টি চালানের মাধ্যমে ১০ হাজার ১৭৭ কেজি ৪১০ গ্রাম বীজ পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরেও চালানের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া যায়নি। ওই বীজ আদৌ বিক্রয়কেন্দ্র কর্তৃক গৃহীত হয়েছে কিনা তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর দিনাজপুরের পুলহাট বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হতে ২০ ডিসেম্বরের এক চালানে লালমনিরহাটের সহকারী পরিচালক (বীবি) বরাবর ৪৭ মেট্রিক টন বারি-২৬ ও বারি-২৮ বীজ পাঠানো হয়। কিন্তু সেটারও প্রাপ্তি রশিদ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রেরিত বীজ রিসিভ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি নিরীক্ষা দফতর। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকা।
একইভাবে পরের বছরের ১০ এপ্রিল বিএডিসির ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালকের (টিসি) কার্যালয় থেকে পঞ্চগড়ের উপ-পরিচালক (টিসি) বরাবর ৩ লাখ ২৪ হাজার কেজি এস্টারিক ও কার্ডিনাল জাতের আলুর বীজ পাঠানো হয়। সেটারও প্রাপ্তিস্বীকারের তথ্য নেই কার্যালয়টিতে। এতে সরকারের ক্ষতি ৬২ লাখ ১২ হাজার টাকা।
রাজশাহীর হিমাগার থেকে ২০১৯ সালের ১৬ জুন টুঙ্গিপাড়া হিমাগারে এক লাখ এক হাজার ৪০০ কেজি আলুবীজ পাঠানো হয়। যার মূল্য ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা। কিন্তু পাঠানোর দুই বছর পরও প্রাপ্তি স্বীকার পাওয়া যায়নি।
বিএডিসিরি রাজশাহীর উপ-পরিচালিকের (পাটবীজ) কার্যালয় হতে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল নওগাঁয় ৩ হাজার ৫০০ কেজি, নাটোরে ১ হাজার ৫০০ কেজি এবং রাজশাহীতে ২৫ হাজার ১০০ কেজি পাটবীজ বিপণন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। চার বছর পেরিয়ে গেছে। যথারীতি এ চালানেরও কোনও তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো এসব বীজ বুঝে পেয়েছে কিনা তা অডিট অধিদফতরকে নিশ্চিত করতে পারেনি বিএডিসি। এতে ক্ষতি হয়েছে ৪৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
বিএডিসির পাবনার টেবুনিয়া ডাল ও তেল বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে ৪ মেট্রিক টন মুগ বীজ পাঠানোর দীর্ঘদিন পরও তা গৃহীত হয়েছে কিনা সে সংক্রান্ত দলিল নেই দফতরটিতে। এতে ক্ষতি হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ টাকা।
জানতে চাইলে বিএডিসি চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার বলেন, ‘আমরা তথ্যগুলো পেয়েছি। কিছু অনিয়ম তো আছেই। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
(ঊষার আলো-এমএনএস)